বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাঁচবে মৃত তুরাগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বব্যাংকের ঋণে তুরাগ নদ দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আর এজন্য ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রিজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম: ইন্ট্রিগ্রেটেড পলিউশন মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট সিস্টেম অব তুরাগ রিভার ইসিএ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পুরোটাই ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী রবিবার (২৫ অক্টোবর) উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। এটি অনুমোদন পেলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পটির গুরুত্ব রয়েছে। কেননা এটি বাস্তবায়ন করা গেলে তুরাগ নদের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। সে সঙ্গে এটি বাস্তবায়নে ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থা। সবকিছু মিলিয়ে প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বংশী নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনদ তুরাগ, যা রাজধানীর চারপাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়কে সহায়তা করে এবং বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে, তুরাগ নদ কৃষি, মৎস্য এবং গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য মিঠাপানি সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দ্রুত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের কারণে এই নদ ক্রমাগত দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি দখলের শিকার হচ্ছে। ফলে এ নদের পরিবেশগত স্বাস্থ্য এবং শহরের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। তুরাগ নদ জলজ জীবনের অপরিহার্য, কারণ এটি বিভিন্ন জলজ প্রজাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এটি পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অত্যাবশ্যক। তুরাগ নদের এসব সমস্যা মোকাবিলায় একটি বহুমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ আইনের কঠোর প্রয়োগ, কেন্দ্রীয় বর্জ্য-পানি শোধনাগার স্থাপন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে, দূষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নত করা এবং হটস্পট ম্যাপিং করা, তুরাগ নদে নির্গত পরিবেশগত ও অনুগত শিল্পের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা, নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে (কমপক্ষে ১০০টি সরাসরি অভিযান পরিচালনা, অ-অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চিঠি পাঠানো ও জরিমানা ধার্য করা) শিল্পবর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন ও কার্যকর করা, তুরাগ তীরবর্তী ১৭৩টি চিহ্নিত শিল্পকারখানায় স্থাপিত শিল্পবর্জ্য শোধনাগার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, শিল্পকারখানায় পানির মান পর্যবেক্ষণে রিয়েল টাইম অনলাইন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন, নদীতীরে অবৈধ বর্জ্য ফেলা ও সংরক্ষণের স্থানগুলোতে ড্রোন ব্যবহার করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, ভূপৃষ্ঠে পানির মান পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকা তৈরি, তুরাগ নদের গুণমান মূল্যায়নের জন্য একটি সমন্বিত জিআইএসভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন, জলযান টহলের মাধ্যমে নদের পানির গুণমান পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কলসেন্টার ৩৩৩-৪-কে সমন্বিত অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করা, দেশে ৪০টি, বিদেশে ৫টি প্রশিক্ষণ ও ১৫টি কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা এবং তাদের গ্রিন স্টার রেটিং দেওয়া এবং বিলবোর্ড, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, এ প্রকল্পের আওতায় শিল্পকারখানায় পানির মান পর্যবেক্ষণে রিয়েল টাইম অনলাইন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করার মাধ্যমে শিল্পবর্জ্য শোধনাগারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে। ফলে তুরাগ নদের পানির গুণগতমান, জনস্বাস্থ্য সর্বোপরি জীববৈচিত্র সংরক্ষিত হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীদূষণ রোধ ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।



