নতুন বিধিমালা প্রকাশ
পুনর্বিয়ে না করলে আজীবন পেনশন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
স্বামীর পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীকে পুনর্বিয়ে না করার অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার শর্ত বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু এখন থেকে ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে সে শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে পঞ্চাশোর্ধ্ব স্ত্রীকে স্বামীর পেনশনের টাকা পেতে পুনর্বিয়ে না করার প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে না। এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রী পুনরায় বিয়ে না করার শর্তে আজীবন পেনশন পাবেন। এমন বিধান রেখে গ্রস পেনশন ও গ্র্যাচুইটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ও গ্রস পেনশন: পেনশনযোগ্য চাকরিকাল আগের মতো ৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গ্রস পেনশনের হার সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ২১ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত থাকছে। যেমন— ৫ বছরের চাকরিকালে ২১ শতাংশ, ৬ বছরে ২৪, ৭ বছরে ২৭, ৮ বছরে ৩০, ৯ বছরে ৩৩ এবং ১০ বছরে ৩৬ শতাংশ। একইভাবে ১১ বছরে ৩৯ শতাংশ, ১২ বছরে ৪৩, ১৩ বছরে ৪৭, ১৪ বছরে ৫১, ১৫ বছরে ৫৪, ১৬ বছরে ৫৭, ১৭ বছরে ৬৩, ১৮ বছরে ৬৫, ১৯ বছরে ৬৯ এবং ২০ বছরে ৭২ শতাংশ পর্যন্ত গ্রস পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ২১ বছরে ৭৫ শতাংশ, ২২ বছরে ৭৯, ২৩ বছরে ৮৩, ২৪ বছরে ৮৭ এবং ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালের জন্য ৯০ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন পাওয়া যাবে।
বিশেষ ক্ষেত্র: ৫ থেকে ২৪ বছরের চাকরিকালের ক্ষেত্রে নিয়মিত অবসর, মৃত্যু, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণা, পদ বিলুপ্তির কারণে ছাঁটাই কিংবা বিভাগীয় বা বিচারিক কার্যক্রম শেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে অবসর গ্রহণের মতো নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পেনশন প্রযোজ্য হবে।
অবসরভোগীদের নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ: সর্বনিম্ন পর্যায়ে বর্তমানে যারা ৯ হাজার টাকা পেনশন পান, তারা এখন পাবেন ১৮ হাজার টাকা। আর বর্তমানে সর্বোচ্চ যারা মাসে ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন পান, তারা পাবেন ৭০ হাজার ২০০ টাকা। আর ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়বে ৭৫ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে নিট পেনশন পাবেন ১৮ হাজার ১ টাকা। এ ছাড়া ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়ছে ৬৫ শতাংশ। সেক্ষেত্রে নিট পেনশন ৩৫ হাজার ১ টাকা। ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়বে ৬০ শতাংশ, নিট পেনশন ৪৯ হাজার ১ টাকা। ৪০ হাজার ১ ও তার ঊর্ধ্বে নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের এই শ্রেণিতে পেনশন বাড়ানো হয়েছে ৫৫ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় ন্যূনতম নিট পেনশন ৬২ হাজার ১ টাকা।
আনুতোষিকের হার: আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১০ বছরের কম চাকরিকালের জন্য প্রতি টাকায় ২৬৫ এবং ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ১৫ বছরের কম চাকরিকালের জন্য ২৬০ টাকা পাবেন। এ ছাড়া ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ২০ বছরের কম চাকরিকালের জন্য ২৪৫ এবং ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালের জন্য ২৩০ টাকা পাবেন।
বিশেষ আর্থিক সহায়তা: চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি কোনো সরকারি কর্মচারী স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন কিংবা মারা যান, তবে তার পরিবার বা তিনি নিজে বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন। এক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর বা এর অংশবিশেষের জন্য তার শেষ আহরিত তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন দেওয়া হবে।
ছুটি নগদায়ন সুবিধা: অবসরকালে অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে এককালীন পাওয়া যাবে।
অবসর-উত্তর ছুটি এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধার্থে দুদিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর করা যাবে। পিআরএল ভোগরত কর্মচারীরাও এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবেন।



