ড. হোসেন জিল্লুর রহমান
৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর চেয়ে শিক্ষার মান বাড়ানো জরুরি

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। ছবি : আগামীর সময়
দেশের বাজেটে বরাদ্দ কোথা থেকে আসে এবং কীভাবে ব্যয় হয় তার জবাবদিহি থাকা জরুরি। বিশেষ করে প্রকল্পের। ধরেন, দেশে ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এতে কি শিক্ষার লক্ষ্য পূরণ হবে? সেজন্য ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয় বানালে হবে না, বরং গুণগত মান বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর চেয়ে গুণগত মান বাস্তবায়ন জরুরি।
আজ রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত জাতীয় বাজেট সংলাপ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান পিপিআরসির এক গবেষণাকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, দেশের শিক্ষার্থীরা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক তুলনামূলক বিচারে অনেক নিচে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ছেলেমেয়েদের ১১ বছর পড়াশোনা করার পরও অর্জিত শিক্ষার প্রকৃত মান মাত্র ছয় বছরের সমতুল্য।
নতুন প্রকল্প নেওয়া ও মনিটরিং নিয়ে ড. জিল্লুর রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিক সংকট, জাতীয় বাজেট এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। এতে দুর্নীতি বাড়ে। এজন্য প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
‘প্রকল্প বাস্তবায়নে রোডম্যাপ থাকতে হবে। তিন মাসভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা করতে হবে। সেই তিন মাসের ব্যবধানভিত্তিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারো দুর্বলতা বা অক্ষমতা থাকলে তা জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে’, যোগ করেন তিনি।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, অর্থনীতির জন্য সহায়ক সাপোর্ট দিতে হবে। পারিবারিক শিক্ষা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়ার বিকল্প নেই। প্রত্যেকটি পরিবার যেন ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসতে পারে, সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে।
‘কর সীমা নির্ধারণে নানা দিক ভাবতে হবে। কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু এনবিআরের কর আদায় অক্ষমতা নিয়ে কথা বলে লাভ হবে না। দেশের কর পরিধি বাড়লে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে’, কর আদায় নিয়ে বলছিলেন জিল্লুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুর রহিম সাকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, বিজিএমইএ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক, শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু দাস প্রমুখ।




