সুফিয়া কামাল স্মরণে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক আয়োজন

ছবি: আগামীর সময়
কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান ও স্মৃতিচারণে কবির জীবন, আদর্শ এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তার অবদান তুলে ধরেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও স্বজনরা।
শনিবার সন্ধ্যায় রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুফিয়া কামালকে স্মরণ করেন ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলি। বললেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের প্রতিটি পর্বে সুফিয়া কামালের উপস্থিতি ছিল প্রবল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমানাধিকারের একটি দেশ স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই স্বপ্ন যখনই ভঙ্গ হয়েছে, তখনই করেছেন প্রতিবাদ। ১৯৫২ থেকে শুরু করে প্রতিটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ছিলেন।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ছায়ানটের যুগ্ম সম্পাদক জয়ন্ত রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এরপর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন ও স্মৃতিচারণ করেন শিল্পী ইফফাত আরা দেওয়ান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আজি তোমায় আবার চাই’ এবং ‘দীপ নিভে গেছে মম’ গান দুটি পরিবেশন করেন তিনি।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইফফাত আরা দেওয়ান বলেন, ‘খালাম্মার জন্মদিন ফিরে ফিরে আসে। খালাম্মা যেন নিজেকে নিয়েই আসেন। আমরা যে কজন মানুষই থাকি না কেন, সেই সভা হোক কী গানের যে আয়োজনই হোক, খালাম্মাকে আমাদের ভেতরেই খুঁজে পাই। খাওয়া-দাওয়া হতো, চা খাওয়া হতো, গল্প হতো।’
কবি সুফিয়া কামালের পারিবারিক স্মৃতি ও ব্যক্তিজীবনের নানা দিক তুলে ধরেন তার কন্যা সাঈদা কামাল। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের অগ্রসারী ও দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও ঘরের ভেতরে সুফিয়া কামাল ছিলেন অত্যন্ত স্নেহময়ী ও গৃহমুখী একজন মানুষ। সন্তান, স্বজন, প্রতিবেশী এমনকি পোষা প্রাণীকেও সমান ভালোবাসা দিতেন তিনি।’
সাঈদা কামালের বক্তব্যের পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও স্মৃতিচারণ নিয়ে মঞ্চে আসেন শিল্পী খাইরুল আনাম শাকিল। পারিবারিক আত্মীয়তার সূত্রে তিনি সুফিয়া কামালকে ‘নানি’ বলে ডাকতেন বলে জানান। তার ভাষ্য, সুফিয়া কামাল ছিলেন একজন বিনয়ী, নির্বিরোধ অথচ দৃঢ়চেতা মানুষ। সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্ন সবসময়ই মুখ্য ছিল তার কাছে। দেশের নানা সংকট ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সময়ে তার পরামর্শ ও সাহচর্য পেয়েছে ছায়ানট। এরপর ‘যাহা কিছু মম’ এবং ‘সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায়’ গান দুটি পরিবেশন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অতুলপ্রসাদ সেনের ‘কে গো গাহিলে পথে’ ও ‘আমি অকৃতি অধম’ গান দুটি পরিবেশন করেন মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা। পরে নজরুলসংগীত নিয়ে মঞ্চে আসেন শিল্পী বিজনচন্দ্র মিস্ত্রী। ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন’ এবং ‘হে প্রিয় আমারে দিব না ভুলিতে’ পরিবেশন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানজুড়ে শিল্পীদের যন্ত্রানুষঙ্গে মন্দিরায় ছিলেন প্রদীপ কুমার রায় এবং তবলায় ইফতেখার আলম ডলার।




