আইডিআরএর উদ্যোগে ২৩ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ

ছবি: আগামীর সময়
বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বৈধ দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংশ্লিষ্ট জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর নিজস্ব সম্পদ, সিকিউরিটি বন্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের সংস্থান করে এসব দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় সবচেয়ে বেশি অর্থ পাবেন পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকরা। প্রতিষ্ঠানটির ৩ হাজার ৬০০ জন পলিসিধারীকে দেওয়া হবে ১২ কোটি টাকা। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৮০ জন পলিসিধারী পাবেন ৫ কোটি টাকা।
এ ছাড়া হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ১৪৫ জন পলিসিধারী পাবেন ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮ হাজার ৫১৪ টাকা। সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩০০ জন পলিসিধারীকে দেওয়া হবে ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৪৩ জন পলিসিধারী পাবেন ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ টাকা।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় সাতটি জীবন বীমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ জন পলিসিধারীর ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সা পরিশোধ করা হয়েছিল। দুই দফা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪১৭ জন পলিসিধারীর মোট ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ টাকা ৫৮ পয়সা বীমা দাবি পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে কোম্পানিগুলোর লুটপাট ও অপব্যবস্থাপনার পর জনগণের করের টাকায় গঠিত সরকারি তহবিল থেকে বেইলআউট বা সহায়তা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইডিআরএ। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেছেন, সরকারি তহবিল থেকে টাকা এনে কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইডিআরএ অত্যন্ত সতর্ক।
তিনি বলেছেন, ‘সরকারি সহায়তা কোনো প্রাথমিক সমাধান নয়। এটি হতে পারে একেবারে শেষ পদক্ষেপ। শুরুতেই বার্তা দেওয়া হয়েছে, প্রথম কাজ হবে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব উৎস থেকে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে টাকা আদায় করা। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই শুধু সরকারের কাছে আবেদনের কথা ভাবা যেতে পারে।’
তবে এর আগে দুটি বড় শর্ত পূরণের কথা বলেছেন নাদিয়া নিভিন। প্রথমত, পাওনা আদায়ে সব ধরনের সর্বোচ্চ চেষ্টা শেষ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শক্ত আইনি কাঠামো ও তদারকির নিয়মকানুন বা ‘গার্ডরেল’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলো আর এমন সংকট তৈরি করতে না পারে।
তিনি বলেছেন, ‘সরকার থেকে টাকা এনে দেওয়ার পর যদি আবার একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সুনির্দিষ্ট গার্ডরেল ও বিধিনিয়ম নিশ্চিত করার পর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সব চেষ্টা শেষ হওয়ার পরই বেইলআউট প্যাকেজের বিষয় বিবেচনা করা হবে।’
আইডিআরএ জানিয়েছে, অবশিষ্ট সব বৈধ ও অপরিশোধিত দাবি পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই করে পরিশোধের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। পলিসিধারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।



