পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স
বকেয়া বীমা দাবি বেড়েছে সাড়ে ৪ গুণ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বকেয়া ও অমীমাংসিত বীমা দাবির পরিমাণ এক বছরে সাড়ে ৪ গুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৫ সাল শেষে পরিশোধের অপেক্ষায় থাকা বীমা দাবির আনুমানিক দায় দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আগের বছর এ দায় ছিল ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে দায় বেড়েছে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৩৬১ শতাংশ। নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে একে উচ্চঝুঁকির ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরীক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বীমা দাবির হিসাব নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য বিচার-বিবেচনার প্রয়োজন হয় এবং দায় কম দেখানোর ঝুঁকি রয়েছে, যা কোম্পানির মুনাফা ও তারল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
দাবির পাশাপাশি প্রিমিয়াম আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালে মোট প্রিমিয়াম আয় কমে ২৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৫ হাজার হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ২৫ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ছিল। অর্থাৎ এক বছরে মোট প্রিমিয়াম আয় কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তবে নিট প্রিমিয়াম আয়ে চাপ আরও বেশি। ২০২৫ সালে নিট প্রিমিয়াম আয় ১১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার হয়েছে, যা আগের বছর ১৩ কোটি ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ছিল। ফলে নিট প্রিমিয়াম আয় কমেছে প্রায় ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ।
আর্থিক অবস্থানেও কোম্পানিটি চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালে মোট দায় ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৯৮ কোটি ৯৮ লাখ হয়েছে, যা আগের বছর ৭৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ছিল। একই সময়ে মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বীমা ব্যবসায় নিয়োজিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছে কোম্পানির পাওনা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৭ কোটি ৮০ লাখ থেকে বেড়ে ২০২৫ সাল শেষে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকায়। এর মধ্যে সাধারণ বীমা করপোরেশনের কাছে পাওনা ৩৫ কোটি ৪১ লাখ এবং কো-ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা।
বিনিয়োগ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও উচ্চঝুঁকির চিত্র উঠেছে। কোম্পানির মোট ৭২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ একটি তফসিলি ব্যাংকে রাখা হয়েছে। ২০১৯ সালের বীমা কোম্পানির সম্পদ বিনিয়োগ ও সংরক্ষণ বিধিমালার ৬ নম্বর বিধির আলোকে বিষয়টি নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উঠলেও বার্ষিক প্রতিবেদনে ব্যাংকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই এফডিআরকে উচ্চঝুঁকির ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে নিরীক্ষকরা জানিয়েছেন, এতে অর্থের অস্তিত্ব, মূল্যায়ন, সুদ আয় ও মূল্যহ্রাসের ঝুঁকি রয়েছে।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগেও লোকসান এবং একটি কোম্পানিতে অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ২০২৫ সাল শেষে শেয়ার বিনিয়োগের ব্যয়মূল্য ১০ কোটি ৭২ লাখ ১৫ হাজার হলেও বাজারমূল্য ছিল ৯ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ফলে শেয়ার বিনিয়োগে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার আনরিয়েলাইজড লোকসান রয়েছে। এখানে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৪ লাখ ৪০ হাজার শেয়ারের ব্যয়মূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৯৯ লাখ এবং বাজারমূল্য ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ পোর্টফোলিওর বাজারমূল্যের প্রায় ৫৬ দশমিক ২৪ শতাংশই আটকে রয়েছে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে।
কোম্পানির কর্মী-সুবিধা তহবিলের হিসাবেও অসংগতি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিক মুনাফা অংশীদারত্ব তহবিলে (ডব্লিউপিপিএফ) দেওয়ার কথা থাকলেও এ তহবিলের পর্যাপ্ত সহায়ক রেকর্ড রাখা হয়নি এবং তহবিলটি নিরীক্ষাও করা হয়নি। ফলে এ-সংক্রান্ত দায় ও আর্থিক বিবরণীর তথ্যের পূর্ণতা সম্পর্কে নিরীক্ষক পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি।
সার্বিক বিষয়ে কোম্পানি সচিব সোহাগ তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে জানাবেন বললেও আর কিছু জানাননি।



