নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিংয়ে নতুন সম্ভাবনা

নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার। এতে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রদর্শক, চেম্বার প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা এতে অংশ নিয়েছেন। মেলায় পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় নিউইয়র্কের Borough of Manhattan Community College (BMCC), ১৯৯ চেম্বার্স স্ট্রিটে মেলার উদ্বোধন হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। MD, FASN; Greater New York Chamber of Commerce-এর President & CEO মার্ক জ্যাফে এবং U.S. Small Business Administration-এর Administrator কেলি লফলার।
কেলি লফলার তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান তুলে ধরেছেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, ব্যবসা ও কমিউনিটি উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উদাহরণ হিসেবে ফজলুর রহমান খান, সালমান খান, জাওয়েদ করিম, ড. আবুল হুসাম, আবদুস সাত্তার খান, ড. এম. জাহিদ হাসান ও সৈয়দ জাকি হোসাইনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং Greater New York Chamber of Commerce-এর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে মার্ক জ্যাফে ও অ্যামিট শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। একই সঙ্গে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করছে। তাঁর ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে এই এক্সপো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্ক জ্যাফে তার বক্তব্যে Greater New York Chamber of Commerce-এর ২৫ বছরের Chamber Business EXPO আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এই আয়োজন বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ছোট ও উদীয়মান ব্যবসার যোগাযোগ এবং সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করছে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ Business-to-Business Matchmaking কার্যক্রম। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করছেন।
মেলায় বিভিন্ন সেমিনার ও ব্যবসায়িক অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে Global Investment, Banking, Finance & Remittances Forum 2026। এতে বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সোর্সিং ও সাপ্লাই চেইন, এনআরবি বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা ও নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন আন্তর্জাতিক বিজনেস এক্সিলেন্স এয়ার্ড-২০২৬। ব্যবসা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কমিউনিটি সেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
এক্সপোতে বাংলাদেশি ও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার, পেশাজীবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রদর্শনী, সেমিনার, ব্যবসায়িক বৈঠক ও ম্যাচমেকিংয়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বাজার ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে পাবে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতেও এই এক্সপো ভূমিকা রাখবে।



