সেতু বিভাগের সচিবের সঙ্গে এআইআইবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে টেকসই বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-এর একটি ৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আজ সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এআইআইবির পাবলিক সেক্টর ক্লায়েন্টস ডিপার্টমেন্ট (অঞ্চল ১) এর মহাপরিচালক রজত মিশ্র দলটির প্রতিনিধিত্ব করেন।
সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পসমূহেরবিশেষ করে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে— সাফল্য ও এর আর্থ-সামাজিক প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সেতু সচিব আরও জানান, সেতু বিভাগের মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক তদারকি, দিকনির্দেশনা ও সুযোগ্য নেতৃত্ব আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে। তারা দেশের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এআইআইবির অর্থায়নে পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে, যানজট নিরসন, আধুনিক টোল ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন ঢাকা চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাবওয়ে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ইত্যাদি প্রকল্পের বিনিয়োগের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করে।
সেতু সচিব ঋণের শর্তাবলি যেন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সহনীয় ও টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সরকার প্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নে সেতু কর্তৃপক্ষের অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধি দলের প্রধান জনাব রজত মিশ্র বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের গতানুগতিক ধারা ভেঙে আধুনিক প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের প্রশংসা করেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির কথা উল্লেখ করে জানান, এআইআইবি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব স্থাপনে আগ্রহী।
সেতু সচিব বলেছেন, বিনিয়োগের বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করতে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। তিনি বিনিয়োগের শর্তাবলি এবং ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রস্তাবনা দেওয়ার জন্য এআইআইবিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা পর্যালোচনার পর সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




