আইসিসিবিতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এক্সপো শুরু

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬’। বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয়বারের মতো উদ্বোধন করা হয় আয়োজিত এ প্রদর্শনীর। চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তির সর্বশেষ পণ্য ও উদ্ভাবন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ দিতে এ আয়োজন করা হয়েছে। আই-স্টেশন লিমিটেড ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। তাঁর ভাষ্য, প্রদর্শনীটি প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বৃদ্ধির কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বিদেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্যে বিসিএসের মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও শিল্পায়নের সঙ্গে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও জোরদার করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা সম্পদ রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তথ্য, ডিজিটাল ব্যবস্থা, ব্যবসা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষাও এর অংশ।
আয়োজক আই-স্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা জানান, প্রদর্শনীতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্য তুলে ধরা হচ্ছে। স্মার্ট ও সংযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিসিএসের সহসভাপতি ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসান দিপু উল্লেখ করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য, নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, অগ্নিনিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষায় বিনিয়োগ এখন গুরুত্বপূর্ণ। তবে দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সচেতনতার অভাব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অসম প্রয়োগ ও প্রযুক্তির ব্যয় এ খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওশি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সাকি রেজওয়ানা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ঢাকা) মো. ছালেহ উদ্দিন বক্তব্য দেন। পরে অতিথিরা ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনীতে ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড এবং পাঁচ শতাধিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন। এতে প্রদর্শিত হচ্ছে স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম, সাইবার নিরাপত্তা, অ্যাকসেস কন্ট্রোল, অগ্নিনিরাপত্তা প্রযুক্তি, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), নিরাপত্তা ক্যামেরা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার সল্যুশন।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা বলছেন, এর মাধ্যমে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
প্রদর্শনী দুটিতে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাবে। তবে দর্শনার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে অনলাইনে।



