তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার

রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড। টানা তৃতীয়বারের মতো এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করল প্রতিষ্ঠানটি।
এ বছর ‘এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার’, ‘ফুটওয়্যার রিটেইলার অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘সাসটেইনেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে এপেক্স। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘ফুটওয়্যার রিটেইলার অব দ্য ইয়ার’ ও ‘সাসটেইনেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেছিল। এবার প্রথমবারের মতো ‘এআই ইনিশিয়েটিভ অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতেও স্বীকৃতি পেল তারা।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফিরোজ মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এপেক্সের হেড অব মার্কেটিং মো. রায়হান কবির এবং হেড অব রিটেইল বিজনেস আরবাবুর রহমান।
রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস প্রতিবছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের খুচরা বিক্রয় খাতে অসামান্য সাফল্য, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেয়। এপেক্সের বিভিন্ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করেন ইওয়াই-পার্থেনন, ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনাল, কেপিএমজি, আরএসএম সিঙ্গাপুর, কার্নেই এবং পিডব্লিউসি অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এবারের স্বীকৃতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঈদ উপলক্ষে চালু করা ‘এপেক্স এআই স্টাইলিস্ট’ উদ্যোগ। বাংলাদেশের খুচরা বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এ উদ্যোগের মাধ্যমে ৮৩ হাজারের বেশি সেশন সম্পন্ন হয়েছে। এআই-নির্ভর পরামর্শের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজারবার ক্রেতাদের পণ্য নির্বাচন করতে সহায়তা করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ডিজিটাল অর্ডার সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে গ্রাহক সন্তুষ্টির হার ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।
এপেক্স জানিয়েছে, গত বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
পুরস্কার অর্জন প্রসঙ্গে ফিরোজ মোহাম্মদ উল্লেখ করেছেন, বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পাওয়া একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এপেক্সের জন্য গর্বের বিষয়। টানা তিন বছর ধরে রিটেইল এশিয়া প্রতিষ্ঠানটিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মানিত করেছে। তার ভাষ্য, এ অর্জন এপেক্সের কর্মী ও গ্রাহকদের সম্মিলিত সাফল্যের প্রতিফলন।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগেও অগ্রগতি দেখিয়েছে এপেক্স। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৪৬ লাখ লিটার ভূগর্ভস্থ পানি সাশ্রয় করছে। পাশাপাশি দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ এলডব্লিউজির গোল্ড সনদপ্রাপ্ত বর্জ্য শোধনাগার পরিচালনা করছে তারা। সৌরশক্তির ব্যবহার এবং পিইটি-টু-প্রোডাক্ট সার্কুলার ইকোনমি উদ্যোগের আওতায় ৪৫১ টন বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে গত এক বছরে ২ হাজার ৫০৭ দশমিক ২০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের খুচরা বাজারেও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে এপেক্স। ২০২৫ সালের ফাউন্ডার্স ডে উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ করে। বর্তমানে সারা দেশে এপেক্সের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে।
ঈদকেন্দ্রিক কৌশলগত বিপণনের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে প্রতিষ্ঠানটি। এপেক্সের খুচরা নেটওয়ার্কের আওতায় বর্তমানে ৭০ লাখের বেশি ক্রেতা রয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ লাখ নিবন্ধিত লয়্যালটি গ্রাহকের ৫৭ শতাংশ নিয়মিত পুনরায় কেনাকাটা করেন।




