পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ হাট
দিনে ২০ লাখ টাকার জলপাই বেচাকেনা
- দেশের বৃহত্তম এ হাটে ৫০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান
- বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার জলপাই

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দেশের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাটে প্রতিদিন বেচাকেনা হচ্ছে গড়ে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। মৌসুম জুড়ে প্রায় ছয় হাজার টন জলপাই কেনাবেচা হয় এ হাটে।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলার জলপাই। আর এই জলপাইয়ের বাণিজ্য ঘিরে প্রতি বছর তিন মাস কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে প্রায় ৫০০ শ্রমিকের। পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ টন জলপাই আমদানি হয় দেশের বৃহত্তম এ হাটে। প্রতিদিন লেনদেন হয় ১৫-২০ লাখ টাকা।
দেশের আচার ও তেল প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এ হাটের জলপাই। ঐতিহ্য, অনুকূল বিপণনব্যবস্থা ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে হাটটি। লাভজনক হওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বছর জুড়েই বিভিন্ন এলাকার জলপাইগাছ আগাম ঠিকা নিয়ে এ হাটে বিক্রি করেন।
হাটে আসা বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের মৌসুমি ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বললেন, ‘আমরা ১০ জন মিলে বিভিন্ন জেলা থেকে সারা বছর প্রায় ২০-৩০ লাখ টাকার জলপাইগাছ ঠিকা নিই। তিন মাসে এ হাটে এনে বিক্রি করি। লাভ হয়, নইলে কি ব্যবসা করি।’
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে হাটের কার্যক্রম। জলপাইয়ের ভালো মান, বিপুল আমদানি ও দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে তিন মাস জুড়ে সরগরম থাকে হাটটি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী একরামুল বলেছেন, ‘এ হাটের মতো জলপাই আর কোথাও হয় না।
বিদেশে এই জলপাইয়ের খুব চাহিদা, তাই সবাই আমরা এখানে আসি।’
হাটের ইজারাদার রানা বলেছেন, ‘কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত জলপাই বিক্রি হয়। পুরনো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মণপ্রতি ৬০ এবং নতুনদের কাছ থেকে ৮০ টাকা মাশুল নেওয়া হয়।’
জলপাইয়ের এ হাটে তিন মাস কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ৫০০ শ্রমিক। তাদের আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ কিনেছেন জমিও।
শ্রমিক আজিমুল বলেছেন, ‘তিন মাস ধরে প্রতিদিন এক দুপুর কাজ করে ৫০০-৬০০ টাকা কামাই করি।’
আলিমুল বলেছেন, ‘খালি পেট চালানি নহায় এই হাটত কামাই করে জমিও কিনিছু।’
মৌসুম জুড়ে প্রায় ছয় হাজার টন জলপাই আমদানি হয় এ হাটে। হাটটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও আরও সমৃদ্ধ করতে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পঞ্চগড়ের কর্মকর্তা মোছা. মুআল্লেমা খানম।



