পিপিপি মডেলে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বসছে সোনাগাজীতে

সংগৃহীত ছবি
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের উদ্যোগ হিসেবে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পিপিপি পদ্ধতিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ফেনীর সোনাগাজীতে ১৩০-১৪০ মেগাওয়াট (এসি) গ্রিড-টাইড সোলার পাওয়ার প্লাস ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মার্কেট সাউন্ডিং’ কর্মশালা।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা, নীতিগত কাঠামো এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানালেন, সৌরবিদ্যুৎ এখন বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং বাংলাদেশও সেই পথে দ্রুত এগোচ্ছে।
তার ভাষায়, আগামী জুনের মধ্যে একটি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা ঘোষণা করা হতে পারে, যা সৌরবিদ্যুৎ খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ তৈরি করবে। তিনি বেসরকারি খাতের জন্য নীতিগত ও পলিসি সহায়তা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বললেন, আমদানি-নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হচ্ছে, সৌরবিদ্যুৎ সেই নির্ভরতা কমাতে এবং গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন বিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তার মতে, সোনাগাজী প্রকল্পটি শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং একটি ‘রেপ্লিকেবল মডেল’, যা ভবিষ্যতে সরকারি জমি ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড হবে বিদ্যুতের ক্রেতা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সরকারি জমিতে— বেজার মালিকানাধীন প্রায় ৪১২ একর জমি ব্যবহার করে।
সরকার এরই মধ্যে এই উদ্যোগকে নীতিগত কাঠামোর মধ্যে আনতে কাজ করছে। ২০২৫ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে নতুন গাইডলাইন অনুমোদন এবং বেজা-বিপিডিবির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রকল্পটি আরও এগিয়েছে।
নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন জমিতে পিপিপিভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় সোনাগাজী প্রকল্পকে একটি পাইলট উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক মডেলিং, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং টেন্ডার সহায়তা দেবে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
কর্মশালায় অংশীজনরা জানান, প্রকল্পটি সফল হলে এটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার পথ খুলে দিতে পারে।




