গ্যাস সংকটের জন্য আমদানিনির্ভর নীতিকে দুষছে সিপিবি

ফাইল ছবি
ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটি।
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমীর ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন বলেছেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ না করে দীর্ঘদিন ধরে আমদানিনির্ভর এলএনজি নীতির কারণেই বর্তমান সংকট।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকটে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় রান্নাবান্না, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও অবনতি হলেও সরকার এ বিষয়ে জনসম্মুখে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছে না।
সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশে আমদানিকৃত এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে| এর একটি পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি বেসরকারি কোম্পানি সামিট। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার আগুন লাগার ঘটনায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দেশে গ্যাস সংকট আরও বেড়ে যায়। মানুষের উদ্বেগ দূর করতে সরকার এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দুর্ঘটনা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জনসম্মুখে কোনো বিবৃতি দিচ্ছে না। সরকারের এই নীরবতা ও তথ্য গোপনের প্রবণতা জনমনে আরও অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এ থেকেই মানুষের দুর্ভোগের বিষয়ে সরকারের উদাসীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনকে (পেট্রোবাংলা) শক্তিশালী করতে হবে। বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। বাপেক্স, এসজিএফএল ও পেট্রোবাংলার অনুসন্ধান ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত এবং দেশীয় জনবল ও প্রযুক্তির বিকাশ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বহুমাত্রিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে দেশীয় অর্থায়নে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো কার্যকর উপায় নেই।
বিবৃতিতে দ্রুত কক্সবাজারের মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান টার্মিনালটি মেরামত এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বহুজাতিক কোম্পানিটির প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
একইসঙ্গে গ্যাস সংকট নিরসন, দেশীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুরানা পল্টন মোড় থেকে মশাল মিছিলের কর্মসূচি করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।



