পাঁচ জেলায় চালু হচ্ছে ই-হেলথ কার্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে প্রেসক্রিপশন কোথায়, পরীক্ষার রিপোর্ট কোথায় কিংবা আগে কী ওষুধ খেয়েছেন— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রোগী ও স্বজনদের আর ফাইলের পর ফাইল ঘাঁটতে হবে না। একটি ছোট্ট কার্ডেই সংরক্ষিত থাকবে রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত সব তথ্য। চিকিৎসকের সামনে কার্ডটি উপস্থাপন করলেই মুহূর্তের মধ্যে দেখা যাবে রোগের ইতিহাস, পূর্ববর্তী চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল এবং ব্যবহৃত ওষুধের তালিকা।
এমন একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই দেশের পাঁচ জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হতে যাচ্ছে ই-হেলথ কার্ড কর্মসূচি। সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই কর্মসূচির জন্য ১৬২ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে খুলনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী ও নোয়াখালী জেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ এই সেবার আওতায় আসবেন।
সূত্র মতে, এটি সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ জেলায় ই-হেলথ কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এ-সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই বাস্তবায়ন শুরু হবে।
নির্বাচনের পর স্বাস্থ্য খাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ ‘স্বাস্থ্য সংস্কার সেল’ গঠন করা হয়। এই সেলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো ই-হেলথ কার্ডের প্রযুক্তিগত কাঠামো, ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাস্তবায়ন রোডম্যাপ প্রস্তুত করা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হলো রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকা। একজন রোগী এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে গেলে আগের চিকিৎসার তথ্য অনেক সময় পাওয়া যায় না। এতে একই পরীক্ষা একাধিকবার করতে হয়, সময় নষ্ট হয় এবং চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যায়। ই-হেলথ কার্ড চালু হলে এসব সমস্যার অনেকটাই দূর হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রত্যেক নাগরিককে একটি ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দেশের যেকোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে। চিকিৎসকরা রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন, ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন মনে করেন, নতুন স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের আগ্রহ ও চাহিদা বাড়বে। মানুষ যখন নিজের স্বাস্থ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে, তখন সেবার মান উন্নয়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও ইতিবাচক চাপ তৈরি হবে। তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে ই-হেলথ কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে, যা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।




