বেসরকারি খাতে শঙ্কা
বাড়ছে ঋণ ও ঘাটতির অঙ্ক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্যহীনতায় আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেটে বাড়ছে ঋণ ও ঘাটতির অঙ্ক। সেই সঙ্গে বড় বরাদ্দের বাজেট হওয়ায় ঘাটতি পূরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এত পরিমাণ ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের সংকট তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘাটতির এ প্রস্তাব পেশ করেছেন।
বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে ঘাটতি বাড়ছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এ অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাতের ঋণ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি। এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা কম নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকিটা আসবে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাত থেকে। এদিকে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি এবং অনুদান হিসেবে ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ ঋণ বেশি নেওয়া হলে পরে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া ব্যাংক খাত েথকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ঋণ কম পেতে পারেন। ফলে বিনিয়োগে এর নেতিবাচক প্রভাবে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ঘাটতি বেশি বা কম হওয়াটা বড় কথা নয়; মূল বিষয় হলো— কী কারণে এত বড় ঘাটতির বাজেট করা হয়েছে। ঋণ নিয়ে যদি উৎপাদনশীল কোনো খাতে বা জনকল্যাণে লাগানো হয়, তাহলে সেটি খারাপ নয়। কিন্তু ঋণ নিয়ে যদি নিজেদের ইচ্ছামতো বা ক্ষতিকর কোনো প্রকল্পে ব্যয় করা হয়, তবে তা হবে বড় অপচয়। এতে শুধু জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপই বাড়বে।’
ব্যাংকের ঋণ সক্ষমতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেছেন, ‘বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেওয়া হবে, সেটি যদি ব্যাংকের সক্ষমতার চেয়ে বেশি হয় তাহলে তো সমস্যা। ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার যে সক্ষমতা, তার পুরোটাই যদি সরকার নিয়ে নেয়, তাহলে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে না। ফলে বিনিয়োগও আসবে না।’
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ব্যাপকহারে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের ঋণ পরিশোধ ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় অত্যধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ২ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে জিডিপির ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরা ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্ন সমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়ন করছি। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত হবে, অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং এর মাল্টিপ্লায়ার প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অধিকতর গতিশীল হবে।




