রূপচর্চায় স্বস্তির ছোঁয়া
- কমবে লিপস্টিক ফেসওয়াশের দাম

এক বছর আগেও সৌন্দর্যচর্চার পণ্যকে বিলাসপণ্যের কাতারে রেখে শুল্ক-কর বাড়িয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে রূপচর্চার বাজারে স্বস্তির বার্তা দিল নতুন সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লিপস্টিক, ত্বকের ক্রিম, ময়েশ্চার লোশন ও ফেসওয়াশসহ সাত ধরনের প্রসাধনী পণ্যে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে বলেছেন, এসব পণ্যের বিদ্যমান শুল্কহার অপরিবর্তিত থাকলেও ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকদের খরচ কমবে। বাজার ব্যবস্থায় সেই সুবিধা পাস-অন হলে ভোক্তারাও কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ পেতে পারেন।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, লিপস্টিকের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য প্রতি কেজিতে ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত শুল্ক-কর কমতে পারে। ত্বকের ক্রিমের ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য ২০ ডলার থেকে কমিয়ে ১৪ ডলার করায় কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২২৬ টাকা ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একইভাবে ময়েশ্চার লোশন এবং চার ধরনের ফেসওয়াশের শুল্কায়ন মূল্য ১০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ৬১৩ টাকা পর্যন্ত করের চাপ কমতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত বুধবার পর্যন্ত এই সাত শ্রেণির পণ্য আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ছিল ৪০৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকার প্রায় ৬৪২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে রাজস্ব আয় কিছুটা কমতে পারে। প্রাথমিক হিসাবে ত্বকের ক্রিম থেকে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা এবং ময়েশ্চার লোশন ও ফেসওয়াশ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা রাজস্ব কমার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সব আমদানি চালানই যে নতুন ন্যূনতম মূল্যে শুল্কায়িত হবে, বিষয়টি এমন নয়। পণ্যের ব্র্যান্ড, গুণগত মান ও ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে বেশি মূল্যে শুল্ক নির্ধারণের সুযোগ থাকায় সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণও কমে আসতে পারে।
অন্যদিকে সব প্রসাধনী পণ্যে ছাড় দেয়নি সরকার। ভ্রু সাজানোর পণ্য এবং হাত-পায়ের সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যে আগের শুল্কায়ন মূল্য বহাল রাখা হয়েছে। বরং লিপ লাইনার, লিপ গ্লস ও লিপ জেলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য কেজিপ্রতি ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডলার করা হয়েছে, যা সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে সরকার একদিকে ভোক্তাদের জন্য সীমিত স্বস্তির সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে প্রসাধনী খাতে রাজস্ব আহরণ ও বাজার ভারসাম্যের মধ্যেও একটি সমন্বয় আনার চেষ্টা করেছে। এখন দেখার বিষয়, আমদানি পর্যায়ের এই কর-সুবিধা শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে পৌঁছে সাধারণ ভোক্তার প্রসাধনী ব্যয় কতটা কমাতে পারে।




