বাজেটে কোন খাতে কত বরাদ্দ

সংগৃহীত ছবি
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে তিনি এই বাজেট উত্থাপন করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদের এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে জাতীয় বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরে বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে সংসদের অধিবেশনে যোগ দেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন।
আগামী অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আসন্ন অর্থবছরে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে— মোট উন্নয়ন ব্যয়: ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা; এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি): ৩ লাখ কোটি টাকা; পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয়: ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
সরকার জানিয়েছে, উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ২৭.২৭ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিম্নরূপ
সামাজিক অবকাঠামো খাত: ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ২৯.৭৪%),
ভৌত অবকাঠামো খাত: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা (১৮.৬৬%),
সাধারণ সেবা খাত: ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা (২৬.১৩%), শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে নতুন এমবিবিএস কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী মানসম্মত ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই নারী।
প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।






