১৭৭ প্রকল্পে খোঁজা হচ্ছে বৈদেশিক ঋণ

সংগৃহীত ছবি
পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চায় সরকার। এজন্য খোঁজা হচ্ছে বৈদেশিক ঋণ। সেতুটির মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ প্রয়োজন ৫ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ধরা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সংস্থার ইডিসিএফকে। এরই মধ্যে প্রাথমিক আলোচনাও নাকি শুরু করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)! সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই থেকে শুরু করে ২০৩১ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করতে চায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
শুধু এই প্রকল্পই নয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এমন ১৭৭টি প্রকল্পের তালিকা যুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইআরডির সাবেক সচিব কাজী শফিকুল আজম আগামীর সময়কে বলেছেন, এডিপির তালিকায় নাম থাকা মানেই এ প্রকল্পগুলো সরকার নীতিগতমানে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে সরকারের জন্য যেমন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ঋণ খোঁজা সহজ হয়, তেমনি যারা ঋণ দেবেন তারাও সরকারের অগ্রাধিকারগুলো বুঝতে পারেন। বলা যায়, এটা একটি প্রক্রিয়া।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সম্ভাব্য বৈদেশিক ঋণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), চীন, কোরিয়ান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা-কোইকা, ভারত, জিআইজেড, ইউনিসেফ, দক্ষিণ কোরিয়া, ইইউ, এআইআইবি, কেএফডব্লিউ, সুইজারল্যান্ডের এসডিসি, ইউএনডিপি, ডানিডা এবং জিএফএটিএম।
বৈদেশিক ঋণের জন্য তালিকাভুক্ত করা প্রকল্পের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হলো— মাতারবাড়ী ২৪০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়। এটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের চাহিদা রয়েছে ২১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা আছে ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ১২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে এ ঋণ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা ও জয়দেবপুর পর্যন্ত সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে এডিবির কাছ থেকে ২ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে ৮ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। আরও আছে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল লাইন-৫) সাউদার্ন রুট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে এডিবি ও কোরিয়ার কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে ৩২ হাজার ৩৩০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। একই সংস্থার কনস্ট্রাকশন অব ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল-২) নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের চাহিদা হচ্ছে ৩৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।


