স্ত্রী ঋণখেলাপি হলেও খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হতে বাধা নেই

মো. খুরশীদ আলম।
ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের স্ত্রী ঋণখেলাপি বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তবে স্ত্রী ঋণখেলাপি হলেও তা বাধা নয় ব্যাংক চেয়ারম্যান হওয়ার ক্ষেত্রে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন কোটি টাকা ঋণ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী। পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে ওই ঋণ। খুরশীদ আলমকে ঋণখেলাপি হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়। তার স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলেও খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন।’
এর আগে ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম ঋণখেলাপি কি না, এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ ৭ দাবিতে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকটির ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ আন্দোলনরত সদস্যরা। এদিন দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের সামনে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৭ দাবি তুলে ধরেন ফোরামের আহ্বায়ক নুর–উন–নবী।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ করা চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক এমিডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের অপসারণ, ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলমের দখল করা মালিকানা এবং দেশে থাকা তার সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয় করা, এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংক লুটকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা। আন্দোলনকারীরা বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বশীল পদে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা গ্রাহক। গ্রাহক পরিচয়েই এখানে দাবি নিয়ে এসেছি।
এর আগে গত সোমবার আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতা ছড়াচ্ছেন। সড়কে আন্দোলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসবে না।’





