এস আলমের হাতে ফিরিয়ে দিন ইসলামী ব্যাংক, দাবি চাকরিচ্যুতদের

রাজধানীর দিলকুশার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে রবিবার সকালে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা
ইসলামী ব্যাংকসহ ৫ ব্যাংকের মালিকানা এস আলমের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা।
রবিবার সকালে রাজধানীর দিলকুশার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চলের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ব্যাংকে কর্মরত থাকলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিনা কারণে চাকরিচ্যুত হয়েছেন তারা। পূর্বের মালিকানা কাঠামো পুনর্বহাল করে এস আলমের কাছে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে হবে বলেও দাবি করেছেন তারা। বাতিল করতে হবে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে তারা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পটিয়ার বাসিন্দা আল-আমিন বলেছেন, কোনো অন্যায় করিনি আমরা। হঠাৎ করেই চাকরি চলে গেছে আমাদের। ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
বিক্ষোভকারীরা ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের একাংশের দাবি, ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকটি দখল করে নেয় এস আলম গ্রুপ। তারা অভিযোগ করেন, তখন ভয়ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বৈধ মালিক ও বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের। পরবর্তী সময়ে চালানো হয় ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য।
গ্রাহক ফোরামের প্রতিনিধিদের এক কর্মকর্তা জানান, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের অপসারণ মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়। দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষকে বঞ্চিত করে নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে লোক নিয়োগ দেওয়াই ছিল বড় বৈষম্য।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২২৪ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ইসলামী ব্যাংকে। যাদের অধিকাংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলের। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীনে আয়োজন করা হয় একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার। এতে ৫ হাজার ৩৮৫ জনকে অংশ নিতে বলা হলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন প্রায় ৪ হাজার ৯৭১ জন।

