নাকাল বাংলাদেশসহ বিশ্ব
- জ্বালানির দামে অস্থিরতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়। পরে দাম কমলেও পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে চাপ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ধাক্কা সরাসরি এসে পড়েছে বাংলাদেশে। যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসে দেশে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি দামের বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক ডেটা প্ল্যাটফর্ম স্ট্যাটিসটার তথ্যমতে, ২৩ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে তুলনায় পাকিস্তানে পেট্রলের দাম প্রায় ৪৯ এবং ডিজেলের দাম ৫১ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৪২ এবং ডিজেল ৬৫ শতাংশ। শ্রীলঙ্কায় পেট্রল ৪০ এবং ডিজেল ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপের বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যে পেট্রল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে প্রায় ২৮ ও ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। জার্মানিতে বেড়েছে ৩১ ও ৪০ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ায় পেট্রল ৩৬ এবং ডিজেল ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
তবে সব দেশে যুদ্ধের প্রভাব একইভাবে পড়েনি। ভারতের বাজারে একই সময়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম— যথাক্রমে ৭ ও ৮ শতাংশ। আবার সৌদি আরব, কুয়েত ও ওমানে খুচরা জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্ববাজারে এখন বড় উদ্বেগ ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি সরবরাহ পথে বিঘ্নের কারণে পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে চাপ বেড়েছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও ডিজেলের বাজারে সংকট পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতার বড় ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে জ্বালানি কেনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান বাড়ছে। চলতি বছর মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহব্যবস্থার সংকট এই লোকসানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি জ্বালানি, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
লোকসান কমাতে শেষ পর্যন্ত দেশের বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল থেকে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। পেট্রলের দাম ১৪০ থেকে ১৬০, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের দাম বিবেচনায় নিলে বৃদ্ধির চিত্র আরও বড়। ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা। ফলে ছয় মাসে দাম বেড়েছে ৩৫ টাকা বা ৩৫ শতাংশ। একই সময়ে অকটেনের দাম ১২০ থেকে ১৬৫, পেট্রল ১১৬ থেকে ১৬০ এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৫৫ টাকায় উঠেছে। সেপ্টেম্বরে অবশ্য দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২১ দিনের ব্যবধানে তা আরও ২০ টাকা বা ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে গতকাল বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। র আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বর মাসের ফিউচার দর ২ দশমিক ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমেছে। কয়েক দিন আগে ১৫ সেপ্টেম্বর তেলের দাম ১০৯ ডলারে উঠেছিল। এ ছাড়া অক্টোবর মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ফিউচার দরও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে।



