বুক বিল্ডিংয়ের ৩ কোম্পানি: কার উত্থান, কার পতন?

ফাইল ছবি
২০২৪ সালে বড় স্বপ্ন নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল তিনটি বড় কোম্পানি: এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, টেকনো ড্রাগ এবং বেস্ট হোল্ডিং লিমিটেড। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে এশিয়াটিকের কাট অফ প্রাইস ছিল ৫০ টাকা (সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ টাকা), টেকনো ড্রাগের ৩৪ টাকা (সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৪ টাকা) এবং বেস্ট হোল্ডিংয়ের ৩৫ টাকা (সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৪ টাকা)। তবে এক বছর না পেরোতেই এই তিন কোম্পানির পথচলায় দেখা দিয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তালিকাভুক্তির পর তিন কোম্পানির গতিপথ এখন ভিন্ন।
ডিভিডেন্ডের ক্ষেত্রে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ টানা দুই বছর ১০ শতাংশ হারে ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ৩০ জুন ২০২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে এবং ৩০ জুন ২০২৫ অর্থবছরেও ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। অন্যদিকে, টেকনো ড্রাগ ২০২৪ সালে ১২ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। বিপরীতে বেস্ট হোল্ডিং ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ দিলেও ২০২৫ সালের ডিভিডেন্ড এখন পর্যন্ত ঘোষণা না করায় কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। তবে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ও টেকনো ড্রাগ যথারীতি ‘এ’ ক্যাটাগরিতেই লেনদেন করছে।
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর’২৫) এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের উল্লম্ফন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল মাত্র ২৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় পাঁচগুণ প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে ক্যাশ ফ্লো বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২ পয়সা, যা আগে ছিল ৬০ পয়সা এবং সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ টাকা ৩৩ পয়সা, যা আগে ছিল ৫৪ টাকা ৪ পয়সা।
দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (অক্টোবর–ডিসেম্বর’২৫) এশিয়াটিকের উজ্জ্বল গতি অব্যাহত থাকে। এ সময়ে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা, যা আগের বছরের ৭২ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে (জুলাই–ডিসেম্বর’২৫) কোম্পানিটির মোট ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৫৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৬ পয়সা। একই সময়ে ক্যাশ ফ্লো বেড়ে হয়েছে ৪ টাকা ১ পয়সা, যা আগের বছর ছিল মাত্র ৮৭ পয়সা এবং সম্পদ মূল্য উন্নীত হয়েছে ৫৬ টাকা ৭ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ৫৪ টাকা ৮ পয়সা। শক্তিশালী ইপিএস, নগদ প্রবাহ ও সম্পদ বৃদ্ধির ধারা কোম্পানির মৌলভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
টেকনো ড্রাগ
বিনিয়োগকারীদের অতি আগ্রহ নিয়ে আসা টেকনো ড্রাগের চিত্র কিছুটা মিশ্র। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর’২৫) ইপিএস হয়েছে ৪৭ পয়সা, যা আগের বছরের ৬৩ পয়সার তুলনায় কম। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ১৫ পয়সা,, যা আগের বছর ছিল ২৩ পয়সা এবং সম্পদ মূল্য হয়েছে ২৭ টাকা ৩৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৬ টাকা ৮৮ পয়সা।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–ডিসেম্বর’২৫) কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪০ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ৪৮ পয়সা। প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে (জুলাই–ডিসেম্বর’২৫) মোট ইপিএস হয়েছে ৮৭ পয়সা, যেখানে আগের বছর ছিল ১ টাকা ৮ পয়সা। তবে ইতিবাচক দিক হলো—ছয় মাসে কোম্পানিটির ক্যাশ ফ্লো বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ১১ পয়সা, যা আগের বছরের ১৯ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। আর সম্পদ মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত), যা আগের বছর ছিল ৩০ টাকা ৫৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।
বেস্ট হোল্ডিং
চলতি অর্থবছরে কোনো প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি বেস্ট হোল্ডিং। ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করা এবং আর্থিক তথ্য হালনাগাদ না থাকায় কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মূল্য আয় অনুপাত-পিই রেশিও
মূল্য আয় অনুপাত-পিই রেশিও সূচকে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ অনেক এগিয়ে রয়েছে। কোম্পানিটির পিই রেশিও বর্তমানে ১১.৪৫, যেখানে টেকনো ড্রাগের পিই রেশিও ১৮.২৮। অন্যদিকে, বেস্ট হোল্ডিংয়ের আর্থিক প্রতিবেদন হালনাগাদ না হওয়ায় তাদের পিই অনুপাত আপডেট হয়নি।



