৩০০ কোটির প্রকল্প একনেকে উঠছে বুধবার
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে ৭০ পৌরসভার
- আগের ৭ পৌরসভার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে
- দ্রুত নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে হবে কার্যকর পরিকল্পনা
- নিজস্ব রাজস্ব আহরণ এবং ব্যবসাবান্ধব সেবার সক্ষমতা বাড়বে
- ক্ষুদ্র ও এসএমই উদ্যেক্তাদের সহায়তা দেওয়া হবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের ৭০টি পৌরসভার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য ‘প্রবৃদ্ধি : লোকাল ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট (এলইডি) ইন সিলেক্টেড মিউনিসিপ্যালিটিস’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২৫৪ কোটি ৯৯ লাখ এবং সুইস ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন-এসডিকির অনুদান থেকে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের ৮ বিভাগের নির্বাচিত ৭০টি ক, খ ও গ শ্রেণির পৌরসভায় ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, সুশাসন জোরদার এবং প্রয়োজনীয় পৌরসেবা নিশ্চিত করা হবে। এর মধ্য দিয়ে যুব, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
প্রকল্পটি বুধবার উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে।
রাজধানীর সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে।
পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, বড় শহরের পাশাপাশি দেশের ছোট ছোট শহরগুলোকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে চায় সরকার। এর মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর প্রচেষ্টা অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ। এসব চিন্তা করে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে মোট ১৪টি প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হলেও শেষ সময়ে আরও দুটি প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হতে পারে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, দ্রুত নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে পৌরসভাগুলোর কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি, নিজস্ব রাজস্ব আহরণ এবং ব্যবসাবান্ধব সেবা দেওয়ার জন্য সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত সাতটি পৌরসভায় বাংলা এলইডি মডেল প্রবর্তন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (পৌরসভা), বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট অন্য অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছে।
ওই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩৮ হাজার উদ্যোক্তা এবং ৫০ হাজার সেবা গ্রহীতা প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছে। প্রায় ৪৯ হাজার ১১১ নতুন কর্মদিবস সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আয় প্রায় ১২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলো প্রায় ৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য পৌরসভার প্রতিনিধি, বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান নতুন প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৭০টি পৌরসভায় এলইডি কার্যক্রম কাঠামো বাস্তবায়নে অনুদান হিসেবে ব্যয় করা হবে ১৯৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খাতে ২ কোটি ৯৫ লাখ, গবেষণায় ১৯ কোটি ৮২ লাখ, পৌরসভা ডিজিটালাইজেশনে ৩০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় স্থানীয় সরকার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনের (এনআইএলজি) জন্য ২৮ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতিতে সব বিভাগের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মোট ৭০টি পৌরসভা নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে পৌরসভার শ্রেণি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, জনসংখ্যা ও সেবার চাহিদা, দরিদ্র্যতা ও উন্নয়নের ঘাটতি, স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের সুযোগ, নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা, ডিজিটাল সেবা ও ই-পেমেন্ট চালুর প্রস্তুতি, কৌশলগত যোগাযোগ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ভূমিকা এবং জলবায়ু ও ভৌগোলিক ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।



