ব্যবসায়ী নির্যাতন: দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় রিহ্যাব

ছবি: আগামীর সময়
বরিশালে আবাসন ব্যবসায়ী মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর আদায়ের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর রিহ্যাব বোর্ড রুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি বরিশালে রিহ্যাব সদস্য ও বাকলা ডেভলপারসের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্প-চেকে স্বাক্ষর আদায়ের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং একটি নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর আঘাত। এ ঘটনায় মামলা ও আসামি গ্রেফতার হওয়ায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানানো হলেও, আসামিদের দ্রুত জামিনের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানায় সংগঠনটি।
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে রিহ্যাবের অবস্থান স্পষ্ট করে বলা হয়, সংগঠনটি অপরাধকে কেবল অপরাধ হিসেবেই দেখে, কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার পরিচয় নয়, কর্মকাণ্ডই বিচার্য হওয়া উচিত এবং আইন সবার জন্য সমান হওয়া প্রয়োজন।
দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে আবাসন খাতের বড় অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে তা পুরো বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশই দেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান শর্ত বলে সংবাদ সম্মেলনে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।



