হত্যাচেষ্টা মামলায় শিরীন শারমিনের জামিন

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর লালবাগ থানার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১২ এপ্রিল) শুনানি শেষে এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন।
এদিন শিরীন শারমিনের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী ইবনুল কাওসার। শুনানিতে তিনি বলেছেন, এই মামলার এজাহারে তার নাম ছাড়া নেই কোনো একটি শব্দ। তার বিরুদ্ধে পাবেন না নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ। তিনি অনেক অসুস্থ, মৃত্যুর পথুযাত্রী।
‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি চিকিৎসা নিতে পারেননি। তিনি ২০১৬ সালে হার্ট অ্যাটাক করেন। ৬ মাস পর পর তাকে যেতে হয় সিঙ্গাপুরে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি রয়েছেন আত্মগোপনে। তিনি নিতে পারেননি প্রয়োজনীয় ওষুধও। শারীরিক, মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত। ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন’, আবেদনের তুলে ধরেন আইনজীবী।
সাবেক স্পিকারের জামিনে বিরোধিতা করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। শুনানিতে তিনি বলেছেন, শিরীন শারমিন অবৈধ এমপি। অবৈধ পার্লামেন্টের স্পিকার। তিনি শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে ফ্যাসিস্ট বানাতে করেছেন সহযোগিতা।
‘যখন আন্দোলনকারীরা হামলা করে, তখন তিনি ছিলেন সংসদ ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে। আন্দোলনকারীদের দমনে নির্বিচারে করা হয় গুলি। এতে আশরাফুল নামে এক ব্যক্তি আহত হন। এই ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রার্থনা করছি তার জামিন আবেদন নামঞ্জুরের’, জামিনের বিরোধীতা করে যুক্তি তুলে ধরেন পিপি।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় অসুস্থ বিবেচনায় মঞ্জুর করেন জামিন।
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর লালবাগ থানা এলাকায় আশরাফুল ওরফে ফাহিমকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডি থেকে আটক করা হয় শিরীন শারমিনকে।
পরে তাকে আদালতে হাজির করে দুই দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড ও জামিন উভয় আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গতি সঞ্চার হয়। ছাত্র-জনতার এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর জন্য গ্রেপ্তার আসামিসহ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দমন পীড়ন শুরু করে।
গত ১৮ জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিল করা কালে শেখ হাসিনার নির্দেশে মামলার এজাহারনামীয় আসামি, পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ও অন্যান্য আসামিরা বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যাযজ্ঞ চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিনে ঘটনাস্থলে বাদী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম শান্তিপূর্ণ নিরস্ত্র আন্দোলনরত অবস্থায় বাম চোখ ভেদ করে চোখের রেটিনার পেছনে, মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন। আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ও নিহত হন।

