বীরগঞ্জ
ভাঙা সেতুতে জীবনের ঝুঁকি, দুর্ভোগে শতাধিক মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া একটি সেতু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জের ৬ নম্বর নিজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকার।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ। দ্রুত সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর পার হলেও সেতুটি পুনর্নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ভাঙা সেতু পার হতে হচ্ছে তাদের। সামনে বর্ষা ও বন্যা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে আরও।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন (৭০) জানালেন, ‘এই গ্রামে ৫০-৬০টি পরিবার। সবাই কৃষক। মুই বুড়া গরিব মানুষ বায়, এখন আর আগের মতো ক্ষেতখামারে যাইতে পারি না। মোর বেটাগো চাষাবাদ করতে হয়। তারা বিরক্ত হয়ে গেছে পুলটার জন্য। এই পুলটা হইলে হামার অনেক উপকার হইত।’
বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম ইসলাম (২০) জানান, ‘গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। ভাঙা সেতুর কাছে এলেই ভয় কাজ করে। সামনে বন্যা হলে পুরো সেতু ভেঙে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তার।’
এ বিষয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলিম উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীরের ভাষ্য, ‘বলরামপুর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে’ আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম জানালেন, গ্রামীণ জনপদের মানুষের দুর্ভোগ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বলরামপুর এলাকার ভাঙা সেতুর কারণে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা যে কষ্টে রয়েছেন, তা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




