দুই বছর পর পায়রা বন্দরে চীনা জাহাজ

পায়রা বন্দরে চীনা জাহাজ ‘ফান ঝৌ-৬’। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় দুই বছর পর পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে সরাসরি নোঙর করেছে চীনের একটি জাহাজ ‘ফান ঝৌ-৬’। ১৬৮ মিটার দীর্ঘ জাহাজটিতে বন্দরের জন্য আনা হয়েছে পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাহাজটি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে নোঙর করে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ‘ফান ঝৌ-৬’।
বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও আধুনিক ও দ্রুত করতে আনা ইকুইপমেন্টগুলোর মধ্যে আছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি কোয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এসব ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ায় প্রথম টার্মিনালে পণ্য ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সময় কমবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।
পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ উল ইসলাম জানিয়েছেন, পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বন্দরটি ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে গাড়ি আমদানির জন্য ডেডিকেটেড ইয়ার্ড ও শেডের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নতুন ক্রেন যুক্ত হওয়ায় ৬৫০ মিটার মালটিপারপাস বার্থও পূর্ণতা পেয়েছে।
তিনি আরও জানালেন, নাব্য ধরে রাখতে পারলেই পায়রা বন্দরকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার ফলে বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর বিকাশের পথও আরও সুগম হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার টন পাথর নিয়ে ‘এমভি জেইন’ এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার টন পাথর নিয়ে ‘এমভি ডা হং-১৬’ নামের দুটি মাদার ভ্যাসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে নোঙর করে পণ্য খালাস করেছিল।
তবে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্য সংকট পায়রা বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রমের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। নাব্য ধরে রাখতে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি বন্দরকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজড করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।




