আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, তদন্ত কমিটি

রাজবাড়ীর বিভিন্ন দাখিল মাদ্রাসায় গাইড কোম্পানির সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার আগেই সেই প্রশ্নপত্র ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাজবাড়ী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদকে। তিনি আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তাকে কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ২০২৬ আগামীর সময় অনলাইনে ‘মাদ্রাসার পরীক্ষা গাইড কোম্পানির প্রশ্নপত্রে, মিলছে ইউটিউবেও’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, রাজবাড়ী জেলার অধিকাংশ দাখিল মাদ্রাসায় গাইড কোম্পানির সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্তত ১২টি মাদ্রাসায় লেকচার প্রকাশনীর প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে একই প্রশ্নপত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেলে পরীক্ষার ৩ থেকে ১৮ দিন আগেই প্রশ্নপত্র ও উত্তর প্রকাশ করা হয়েছে। পরে পরীক্ষার হলে বিতরণ করা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ইউটিউবে প্রকাশিত প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থীও জানিয়েছে, তারা ইউটিউবে পাওয়া প্রশ্ন দেখেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রশ্ন প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও মাদ্রাসা সমিতির সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয় না। একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তারা।




