বোয়ালমারী
ফলের প্রলোভনে শিশুকে মক্তবে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, মামলা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে পিপুল ফল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মক্তবের একটি কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আল আমিন (৩৭) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোতাশী রেলগেট সংলগ্ন বাইতুন নুর মসজিদ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ১০টার দিকে বোয়ালমারী থানায় মামলাটি করেন শিশুটির মা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুটি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় খেলতে গিয়ে পিপুল লতার পাকা লাল ফল সংগ্রহ করছিল। স্থানীয়ভাবে ফলটি ‘পিপুল মরিচ’ নামে পরিচিত। এ সময় আল আমিন শিশুটিকে আরও ফল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাত ধরে মাদ্রাসার মক্তবের মোতোয়াল্লির কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির পোশাক খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়াসহ অশোভন আচরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে ঘটনাটি জানায় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সে অভিযুক্ত আল আমিনকে শনাক্ত করে।
শিশুটির মা জানান, খেলতে গিয়ে পিপুল মরিচ সংগ্রহের সময় তার মেয়েকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে। চিৎকার করার পর অভিযুক্ত তাকে ছেড়ে দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সন্তানের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আল আমিন বর্ণিচর গ্রামের কাইয়ুম মাস্টারের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে সোতাশী গ্রামে তার নানা বিশিষ্ট আলেম মাওলানা নুর মোহাম্মদের বাড়িতে বসবাস করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ সময় তার এক ফুফু জানান, তার ভাতিজা কী করেছে, তা তারা দেখবেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে আল আমিনের বোন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ভাই এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাননি। আল আমিন বর্তমানে বাড়িতে নেই জানিয়ে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসার প্রস্তাবও দেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিন্টু লস্কর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিশুটিসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।




