২৩ দিন ধরে সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ

সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ— সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ২৩ দিন ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
আজ রবিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউস ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দরে ভারতীয় কোনো ট্রাকের দেখা মেলেনি। অলস পড়ে আছে পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলো। অধিকাংশ ডিপোতে পাথর নেই। খালি পড়ে আছে ট্রাক টার্মিনালও।
স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করা ব্যবসায়ীরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের পাথর সরবরাহ করছেন। রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট আকৃতির পাথর দেওয়া হচ্ছে। এসব পাথর অটোক্রাশ মেশিনে ভাঙার পর আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাথরের স্বাভাবিক মাপ না থাকায় কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা কিনতে চাইছে না।
স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরে প্রবেশ করত। কিন্তু গত ২৩ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় ভারত থেকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের পাথর সরবরাহের প্রতিবাদে গত ১৮ জুলাই থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম জানালেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এই পাথর দিয়ে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কোনো ঠিকাদার পাথর কিনতে চাচ্ছেন না।
সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী জানান, ভারত থেকে চাহিদামতো পাথর না পাওয়ায় এবং পাথরের মান খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আশা করি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।’
সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানান, দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধের কারণে সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।





