সাবেক সেনাসদস্যের সংগ্রহে হাজার গাছ

সারি সারি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। কোথাও ননীফল, করোসল ও ইনসুলিন প্ল্যান্ট, কোথাও জিনসিং, সাদা-লাল চন্দন কিংবা আগর। যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের ননীফল ইউনানি ঔষধালয় নার্সারিতে এমনই প্রায় এক হাজার ঔষধি গাছের সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন সাবেক সেনাসদস্য খন্দকার কবির হোসেন।
প্রায় পাঁচ বিঘা জমির এই নার্সারি শুধু বিরল প্রজাতির গাছের সংগ্রহশালা নয়, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও একটি ক্ষেত্র। নার্সারিতে কাজ করছেন প্রায় ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ১৩ নারী।
খন্দকার কবির হোসেনের ভাষ্য, ঔষধি গাছের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর। ২০১১ সালে আফ্রিকায় জাতিসংঘের শান্তি মিশনে গিয়ে তিনি ননীফল ও করসলের বীজ সংগ্রহ করেন। পরে গোপালগঞ্জের নারকেলবাড়ির নিজের গ্রামের বাড়িতে বীজগুলো রোপণ করেন। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠায় এ বিষয়ে তার আগ্রহ আরও বাড়ে। ২০১৮ সালে নিজের প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। শুরুতে প্রায় ৬০০ গাছ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে সংগ্রহ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন স্থান থেকে বীজ ও চারা সংগ্রহ করে যুক্ত করেন নতুন নতুন প্রজাতি। নার্সারিতে ননীফল, করসল, ইনসুলিন প্ল্যান্ট, জিনসিং, লাল ও সাদা চন্দন, আগর, ত্বিন, জাফরান, ঘৃতকুমারী, পাথরকুচি, নিম, অর্জুন, শতমূলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।
কৃষিবিদরা বলছেন, কৃষিপ্রধান যশোরে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি ঔষধি ও দুর্লভ প্রজাতির গাছের বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ খাতকে টেকসই করতে শুধু বীজ ও চারা সংগ্রহ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন উপযোগী প্রজাতি নির্বাচন, মানসম্মত চারা উৎপাদন, সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং নির্ভরযোগ্য বাজারব্যবস্থা।
যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন বিশ্বাসের ভাষায়, ঔষধি গাছের চাষ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। তার মতে, কোন প্রজাতি এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়, তা বিবেচনায় রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হবে। মানসম্মত চারা উৎপাদন, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাতকরণেও গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা কাজে লাগাতে পারলে এ খাতে বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।



