Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
মানুষের চিকিৎসার খরচ জুগিয়ে নিঃস্ব ইয়াকুব
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সারা দেশ

ঠাকুরগাঁও

গাছের ছায়ায় কৃষকের শান্ত দুপুর

মো. কাউসার আহমেদ, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও)
agamir somoy
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১৯:০৬
গাছের ছায়ায় কৃষকের শান্ত দুপুর

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বামুনিয়া গ্রামে কাজের ফাঁকে দুপুরের খাবার খাচ্ছেন কৃষকরা। ছবি: আগামীর সময়

দুপুরের রোদ তখন ধীরে ধীরে চড়তে শুরু করেছে। বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠজুড়ে চলছে কৃষকের কর্মব্যস্ততা। সকাল থেকে জমিতে কাজ করতে করতে ক্লান্ত শরীর কিছুটা বিশ্রামের খোঁজে। ঠিক তখনই মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুরোনো গাছ হয়ে ওঠে তাদের আশ্রয়। গাছের শীতল ছায়ায় বসে খুলে যায় খাবারের পাত্র। শুরু হয় দুপুরের ভাত খাওয়া। এই দৃশ্য শুধু কয়েকজন কৃষকের মধ্যাহ্নভোজ নয়; এটি গ্রামবাংলার জীবন, সংস্কৃতি, শ্রম, ভালোবাসা এবং সম্প্রীতির এক চিরন্তন প্রতিচ্ছবি।

বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজে এমন দৃশ্য বহু পুরোনো। হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা কৃষির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষকের ঘামে ভেজা শ্রমেই ফলছে ধান, গম, শাকসবজি আর নানা ফসল। সেই কৃষক শুধু নিজের পরিবারের জন্য নয়। পুরো দেশের খাদ্য নিরাপত্তার দায়িত্বও বহন করেন। কিন্তু কৃষকের জীবনকে শুধু উৎপাদনের হিসাব দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। তাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্মৃতি, গল্প, আবেগ এবং সামাজিক বন্ধন। মাঠের গাছতলায় বসে দুপুরের খাবার খাওয়ার এই দৃশ্য সেই জীবনগাথারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভোরের আলো ফোটার আগেই কৃষকের দিন শুরু হয়। হাতে লাঙল, কোদাল কিংবা আধুনিক কৃষিযন্ত্র নিয়ে তিনি ছুটে যান মাঠে। কখনো ধান রোপণ, কখনো আগাছা পরিষ্কার, কখনো সেচ দেওয়া, আবার কখনো পাকা ফসল কাটার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রখর রোদ, কালবৈশাখী ঝড় কিংবা টানা বৃষ্টি—কোনো প্রতিকূলতাই তাদের দায়িত্ববোধকে থামাতে পারে না। কারণ কৃষক জানেন, তার শ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান।

সকাল থেকে একটানা পরিশ্রমের পর দুপুরের সময়টুকু কৃষকের জন্য নিয়ে আসে খানিকটা স্বস্তি। মাঠের ধারে কোনো বড় আমগাছ, বটগাছ কিংবা কড়ইগাছের ছায়া তখন যেন প্রকৃতির দেওয়া বিশ্রামের স্থান হয়ে ওঠে। সেখানে বসেই কৃষকেরা বের করেন তাদের খাবারের পাত্র। খাবার হয়তো খুব সাধারণ—ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, শাক, ডিম কিংবা শুকনো মরিচ। কিন্তু দীর্ঘ শ্রমের পর সেই সাধারণ খাবারই হয়ে ওঠে অসাধারণ তৃপ্তির উৎস।

গাছতলায় বসে খাওয়ার এই দৃশ্যের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর আন্তরিকতা এবং মানবিকতা। একজনের কাছে যদি একটু বেশি তরকারি থাকে, তিনি তা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেন। কারও খাবার কম হলে তাকে ডেকে পাশে বসানো হয়। সেখানে নেই কোনো অহংকার, নেই কোনো ভেদাভেদ। আছে শুধু একে অপরের পাশে থাকার মানসিকতা। গ্রামীণ সমাজের এই সহজ সৌন্দর্য আজও মানুষকে মুগ্ধ করে।

দুপুরের খাবার খেতে খেতে কৃষকদের মধ্যে জমে ওঠে গল্প আর আড্ডা। আলোচনা হয় চাষাবাদের নতুন পদ্ধতি নিয়ে, বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে, ফসলের অবস্থা নিয়ে কিংবা বাজারদর নিয়ে। কখনো গ্রামের কোনো ঘটনা, কখনো পারিবারিক সুখ-দুঃখও উঠে আসে কথোপকথনে। হাসি-ঠাট্টা আর গল্পে গল্পে অনেকটা সময় কেটে যায়। ফলে দুপুরের এই বিরতি শুধু শরীরের বিশ্রাম নয়, সম্পর্কেরও এক উষ্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়।

একসময় গ্রামের পরিবারগুলোর মধ্যেও এই দৃশ্যকে ঘিরে ছিল আলাদা আবেগ। মা কিংবা স্ত্রী সকালে ঘুম থেকে উঠে যত্ন করে খাবার রান্না করতেন। দুপুর হলে সেই খাবার মাঠে পৌঁছে দেওয়া হতো। অনেক সময় ছোট ছেলেমেয়েরা বাবার জন্য খাবারের পাত্র হাতে নিয়ে মাঠে যেত। কৃষক যখন পরিবারের কারও হাত থেকে খাবার গ্রহণ করতেন, তখন সেই মুহূর্তে মিশে থাকত দায়িত্ব, ভালোবাসা এবং পারিবারিক বন্ধনের এক নীরব প্রকাশ।

আজকের দিনে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিকাজের ধরন বদলেছে। মাঠে এখন আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। অনেক জায়গায় আগের মতো দলবেঁধে কাজ করার পরিবেশও কমে গেছে। মানুষের জীবন আরও ব্যস্ত হয়েছে। ফলে গাছতলায় বসে একসঙ্গে ভাত খাওয়ার দৃশ্যও আগের তুলনায় কিছুটা কম দেখা যায়। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো এমন দৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায় না।

তবুও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো এই ঐতিহ্য টিকে আছে। কোথাও না কোথাও এখনো কৃষকেরা গাছের ছায়ায় বসে দুপুরের খাবার খান। সেই দৃশ্য দেখলে মনে হয়, সময় বদলেছে, প্রযুক্তি এগিয়েছে কিন্তু গ্রামবাংলার কিছু সৌন্দর্য এখনো অটুট রয়েছে। এখনো মানুষ একসঙ্গে বসে খেতে জানে, একে অপরের খোঁজ নিতে জানে, সম্পর্ককে মূল্য দিতে জানে।

গাছতলার এই দুপুর আমাদের প্রকৃতির সঙ্গেও মানুষের গভীর সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়। কৃষকের জীবন মাটি, পানি, বাতাস এবং ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তাই প্রকৃতির কোলে বসে একবেলা খাবার খাওয়ার মধ্যে যে প্রশান্তি রয়েছে, তা শহুরে জীবনের কোলাহলে খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশাল গাছের ছায়া যেন ক্লান্ত কৃষকের জন্য প্রকৃতির পক্ষ থেকে দেওয়া এক নীরব উপহার।

যারা কৃষক পরিবারে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে এমন দৃশ্য শুধুই একটি ছবি নয়। এটি শৈশবের স্মৃতি, মাঠে কাজ করা বাবার ঘামে ভেজা মুখ, মায়ের হাতে রান্না করা খাবারের গন্ধ এবং গ্রামের প্রতি এক অদৃশ্য টানের নাম। সময় যতই এগিয়ে যাক, এই স্মৃতিগুলো মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

গাছের ছায়ায় বসে কৃষকদের একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার এই সাধারণ দৃশ্যটি আসলে অসাধারণ এক বাস্তবতা। এখানে আছে শ্রমের মর্যাদা, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং গ্রামীণ জীবনের নির্মল সৌন্দর্য। তাই এটি শুধু একটি ছবি নয়। এটি বাংলার কৃষকজীবন, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধের এক জীবন্ত দলিল।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেকের সঙ্গে কথা হয়। জানালেন, সকাল থেকে মাঠে কাজ করার পর গাছের ছায়ায় বসে ভাত খাওয়ার আনন্দই আলাদা। তখন সাধারণ ভাত-ডালও অনেক সুস্বাদু লাগে। এই সময়টাতে আমরা সবাই মিলে গল্প করি, কাজের কথা বলি। এতে ক্লান্তিও অনেকটা দূর হয়ে যায়।

আরেক কৃষক নুর ইসলাম জানালেন, আগে মাঠে একসঙ্গে অনেক মানুষ কাজ করত। দুপুর হলে সবাই গাছতলায় বসে খেতাম। এখন যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে, মানুষের সংখ্যাও কমেছে। তবুও সুযোগ পেলেই আমরা একসঙ্গে বসে খাই। এতে গ্রামের সেই পুরোনো সৌহার্দ্যটা টিকে থাকে।


ঠাকুরগাঁওগ্রামবাংলাকৃষক
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ১৬ জুন ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    বেলজিয়াম
    ১
    মিসর
    ১
    ১৬ জুন ২০২৬
    রাত ৪:০০ টা
    সৌদি আরব
    ১
    উরুগুয়ে
    ১
    ১৬ জুন ২০২৬
    সকাল ৭:০০ টা
    ইরান
    ২
    নিউজিল্যান্ড
    ২
    মানুষের চিকিৎসার খরচ জুগিয়ে নিঃস্ব ইয়াকুব

    মানুষের চিকিৎসার খরচ জুগিয়ে নিঃস্ব ইয়াকুব

    ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:১২

    সরিষাবাড়ীতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রজাপতি পার্ক

    সরিষাবাড়ীতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রজাপতি পার্ক

    ১৬ জুন ২০২৬, ০০:১৮

    সাংবাদিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

    সাংবাদিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

    ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:১২

    বুধবার মৌলভীবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    বুধবার মৌলভীবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭

    কামরাঙ্গীরচরে ছুরি মেরে দোকান কর্মচারীকে হত্যা

    কামরাঙ্গীরচরে ছুরি মেরে দোকান কর্মচারীকে হত্যা

    ১৬ জুন ২০২৬, ০০:৩০

    সৌদির বাধায় আটকালো উরুগুয়ে

    সৌদির বাধায় আটকালো উরুগুয়ে

    ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪

    সীমান্ত সম্মেলন নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি : বিজিবি

    সীমান্ত সম্মেলন নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি : বিজিবি

    ১৬ জুন ২০২৬, ০০:৪০

    যাত্রাবাড়ীতে গাড়ির ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

    যাত্রাবাড়ীতে গাড়ির ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

    ১৬ জুন ২০২৬, ০০:৪২

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প, ভ্যান্স ও গালিবাফ

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প, ভ্যান্স ও গালিবাফ

    ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:১১

    বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল দিলেন জাইমা রহমান

    বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল দিলেন জাইমা রহমান

    ১৬ জুন ২০২৬, ০১:০৮

    চাঁদা না দেওয়ায় হামলা, ভিডিও ভাইরাল

    চাঁদা না দেওয়ায় হামলা, ভিডিও ভাইরাল

    ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৬

    কেপ ভার্দের কাছে স্পেনের অসহায় আত্মসমর্পণ

    কেপ ভার্দের কাছে স্পেনের অসহায় আত্মসমর্পণ

    ১৬ জুন ২০২৬, ০১:০৭

    শুধু সন্দেহে নয়, কারণ দেখিয়ে গ্রেপ্তার

    শুধু সন্দেহে নয়, কারণ দেখিয়ে গ্রেপ্তার

    ১৬ জুন ২০২৬, ০০:৫৭

    টঙ্গীতে ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক ২

    টঙ্গীতে ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক ২

    ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪০

    ভাড়া বাসাকে স্থায়ী ঠিকানা দেখানোয় চাকরি গেল আবিদের

    ভাড়া বাসাকে স্থায়ী ঠিকানা দেখানোয় চাকরি গেল আবিদের

    ১৬ জুন ২০২৬, ১৭:৩৩

    advertiseadvertise