মেঘনায় কহিনুর হত্যা: এক মাসেও এগোয়নি তদন্ত, ক্ষুব্ধ পরিবার

ফাইল ছবি
কুমিল্লার মেঘনায় চর দখলের জেরে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নারী নিহতের ঘটনায় একমাসেও এগোয়নি তদন্ত। মামলার ৬১ আসামির মধ্যে ৪৮ জন আগেই জামিন পেয়েছেন। পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়ে আছেন কারাগারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতিতে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আট আসামি।
নিহত কহিনূর আক্তার (৩৮) মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চর বিননপুর গ্রামের কাবিল মিয়ার স্ত্রী। গত ২৬ জুলাই মেঘনা ও তিতাস উপজেলার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে নিহত হন কুহিনুর।
ঘটনার দুইদিন পর, ২৮ জুলাই রাতে মেঘনা থানায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের স্বামী কাবিল।
ওই রাতেই চারজন এবং পরদিন ২৯ জুলাই আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের মো. হান্নান (২৬), মাইনুদ্দিন (৪০), কাশেম বেপারী (৬০), মো. রানা (২১) এবং মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. সুরুজ মিয়া (৬২)।
মামলার বাদী নিহতের স্বামী কাবিল বললেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমার মনে হয়, আমি বিচার পাব না। যেদিন মামলা করেছি, এরপর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ আসেনি। তারা টাকা খেয়েছে। শুনেছি সেদিন ৪১ জন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে গেছে।’
বিননপুর গ্রামের আলী আকবরের অভিযোগ, ‘পাঁচজন ছাড়া মামলার আর কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি ভয়ে ওই এলাকায় যেতে চান না। তার গাফিলতির কারণে অনেক আসামি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।’
আসামিরা বিভিন্নভাবে বাদী ও তার পরিচিতদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ আকবরের।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাঈদ সানাউল্লাহ। তার ভাষ্য, ‘এটি হত্যা মামলা। আসামিদের গ্রেপ্তারে আমার কোনো ধরনের গাফিলতি নেই। সেদিন আমি হাইকোর্টে যাওয়ার আগেই আসামিরা চলে যান। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পরে জানতে পেরেছি, হাইকোর্ট তাদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।’
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ওই এলাকায় নদী পার হয়ে যেতে হয়। মামলার আসামিরা দাউদকান্দির ভাটেরা, তিতাসের চর ভাটেরা এবং মেঘনার চর কাঠালিয়া ও বিননপুর এলাকার বাসিন্দা। তাদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানার সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। এরপরেও আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
জামিনে বের হলেও সব আসামিকে আইনের আওতায় আসতে হবে বলে জানালেন ওসি শহীদুল।









