‘যদি কোনোদিন সুযোগ-সুবিধা হইত, ক্ষুধার্ত মানুষকে ভালোমন্দ খাওয়াইতাম’

ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের সখীপুর ডাকবাংলোর সামনে ছোট্ট একটি ছাউনি। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এই চিলতে জায়গাটুকুতেই বছরের পর বছর ধরে বসে আছেন মহেশ রবিদাস। হাতে সুই-সুতো আর রং-কালির ব্রাশ। সামনে রাখা ভাঙা কিংবা মলিন কিছু জুতো। গত ৩০ থেকে ৩২ বছর ধরে এভাবেই জুতা সেলাই ও পলিশের কাজ করে চলেছেন তিনি। মহেশের হিসেব মতে, তিন দশকের এই সুদীর্ঘ পথচলায় উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জুতো সচল আর চকচকে করে তুলেছেন তিনি। এই পেশার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর জীবনের সিংহভাগ সময়ের স্মৃতি।
মহেশ রবিদাসের গ্রামের বাড়ি সখীপুর পৌর এলাকার সানবান্দা গ্রামে। অভাবের সংসারে ছোটবেলা থেকেই জড়িয়ে পড়েন জুতো সেলাইয়ের কাজে। বর্তমানে তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যাসন্তান। প্রতিদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে মাস শেষে তাঁর পকেটে জোটে মাত্র ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। বর্তমানের অগ্নিমূল্যের বাজারে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো কতটা কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে মহেশ কোনো অভিযোগ করেন না; এই স্বল্প আয়ের মধ্যেই নিজের সাধ ও সাধ্যকে সীমাবদ্ধ রেখে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন।
কাজের ফাঁকে কথা হয় মহেশ রবিদাসের সঙ্গে। জীবনের গল্প বলতে গিয়ে তিনি বললেন, 'আমি দীর্ঘ ৩০-৩২ বছর ধইরা মুচি পেশার সাথে জড়িত রইছি। এই কাজটাই আমার জীবন। যতদিন বাঁইচা থাকমু, ততদিন এই মুচি পেশাকে ভালোবাইসা বাঁইচা থাকমু।'
কথাপ্রসঙ্গে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, যদি কখনো সুযোগ পান, তবে কোন স্বপ্নটি পূরণ করতে চাইবেন? প্রশ্নটা শুনেই মহেশের চোখেমুখে এক অদ্ভুত মানবিক আলো ফুটে ওঠে। আলতো হেসে তিনি জানালেন, 'যদি কোনোদিন সুযোগ-সুবিধা হইত, তাইলে ক্ষুধার্ত মানুষকে ভালোমন্দ খাওয়াইতাম।'
নিজের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারেও অন্যের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এই ইচ্ছেটা সত্যিই অনন্য।




