গরমে বাড়ছে রোগী, সেবা দিতে গিয়ে অসুস্থ চিকিৎসকরাও

ছবি: আগামীর সময়
ঈদের ছুটিতে রোগীর চাপ বেড়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন, যাদের বড় একটি অংশ শিশু ও কিশোর। এ অবস্থায় চিকিৎসক সংকটের কারণে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
কয়েক দিন ধরে টানা ডিউটি, রোগীর চাপ আর জনবল সংকটের মধ্যে সেবা দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন চিকিৎসকেরাও।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকের ১৪টি এবং নার্সের ৮টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ঈদের ছুটির মধ্যেও সীমিত জনবল নিয়ে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চিকিৎসকরা। উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের শরিফা আক্তার পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে এসেছেন। শিশুটি উচ্চ জ্বর ও খিঁচুনিতে আক্রান্ত। কিছুক্ষণ পর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের খলতবাড়ি গ্রামের আকাশ মিয়াকেও (২১) হাসপাতালে আনা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানালেন, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে তার খিঁচুনি শুরু হয়।
জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোফাক্কারুল আলম জানিয়েছেন, সন্ধ্যা থেকে একটানা রোগী দেখছেন তিনি। রোগীর চাপ এত বেশি যে বিশ্রামের সুযোগ নেই। জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পেট ও বুকে ব্যথার রোগী আসছেন বেশি। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা ও মারামারিতে আহত রোগীদেরও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়ার রোগীও রয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আট মাস বয়সী শিশু খাদিজার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাটশিরা গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে খাদিজা ঈদের দিন সকাল থেকে খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঈদের দিন থেকেই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছেন তার বাবা-মা।
গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) রাজেন্দ্র দেবনাথ বলেছেন, ঈদের আগের দিন থেকে টানা বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ছুটির সময় চিকিৎসক সংকট ও বাড়তি রোগীর চাপ একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে। তার ভাষ্য, হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসেন আরও ১৪০ থেকে ১৮০ জন।
সিনিয়র স্টাফ নার্স সুবিতা জানিয়েছেন, বর্তমানে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ১২৪ জন রোগী ভর্তি আছেন। আরও কয়েকজন ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। শনিবার বিকাল পর্যন্ত ৫১ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিবাকর ভাট বলেছেন, চিকিৎসক ও নার্সের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।




