নতুন কুঁড়ির দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখ ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আগামী পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়, পদকের জন্য লড়াই করতে যাবে। তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি হিসেবে সবাই খেলাধুলাবান্ধব এবং ক্রীড়াবান্ধব একটি সমাজ গঠনের জন্য কাজ করছি। বর্তমান সরকারের খেলাধুলা নিয়ে যে পরিকল্পনা রয়েছে, আপনারা সবাই অবগত রয়েছেন। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কাপ প্রদান করছি।’
তিনি বলেন, ‘নতুন করে স্পোর্টসের মাধ্যমে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অন্বেষণ করে তাদের মধ্য থেকে আগামীর জাতীয় খেলোয়াড় তৈরির জন্য পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’
নতুন কুঁড়ি কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরেই ১ লাখ ৬৮ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেছিল। দ্বিতীয় আসর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে ৫ নভেম্বর একযোগে ৫০৩টি উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করছে।’
তিনি বলেন, ‘মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ১ লাখ ৬৮ হাজার থেকে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় আসর শুরু করতে যাচ্ছি।’
খেলাধুলার জন্য মাঠের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা আসলে আমরা সেই মাঠগুলো সংস্কার করবো, খেলার উপযোগী করে তুলবো।’
উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়াম নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ২০১টি উপজেলায় স্টেডিয়ামের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
ফুটসাল নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রজন্মের জনপ্রিয় খেলা ফুটসাল। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইতিমধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডে ফুটসাল মাঠ তৈরির জন্য ডিপিপি জমা দিয়েছেন। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ তৈরি করবো।’
আগামী শিক্ষা বর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি বই পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হচ্ছে বলেও জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা প্রথম। নতুন প্রজন্মকে সুস্থভাবে গড়ে তোলার জন্য, ডিভাইস থেকে দূরে রাখার জন্য এবং সর্বোপরি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য এই কার্যক্রম হাতে নিয়েছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তরুণ সমাজের জন্য মানবিক, সমৃদ্ধশালী ও ক্রীড়ামোদী বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১৫টি স্পোর্টস আমরা বছরব্যাপী জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে মাঠে রাখতে চাই। জানুয়ারি থেকে আরও ব্যাপকভাবে আমরা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেব।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রত্যেক জেলার ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেউ ব্যর্থ হলে কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ যে বিভিন্ন গেমসে অংশগ্রহণ করে, যেমন এশিয়ান গেমস, অলিম্পিক গেমস, সাফ গেমসসহ যত প্রতিযোগিতা রয়েছে, সেখানে অংশগ্রহণ করাই বড় কথা নয়। এসব গেমসে আমরা ঘুরতে বেড়াতে যেতে চাই না। আমরা সত্যিকার অর্থে আগামী পাঁচ বছর পরে এমন অবস্থান তৈরি করবো যে আমরা ঘুরতে নয়, পদকের জন্য এসব গেমসে লড়াই করতে যাবো।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী খেলায় শেরে বাংলা একাদশ ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাস অংশ নেয়। খেলায় শেরে বাংলা একাদশ জয় লাভ করে। পরে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি ও চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নগরীর হরিণাফুলিয়া এলাকায় একটি বায়োগ্যাস প্লান্টের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশসহ পৃথিবীতে জ্বালানি সংকট রয়েছে। সেই জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, তার পরামর্শ নিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্টকে দেশের তৃণমূলের প্রতিটি ঘরে স্থাপন করতে চাই।’
তিনি বলেন, সরকার পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করে ১৫ হাজার সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বরিশাল অঞ্চলে ৮১টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, গরুর গোবরের পাশাপাশি হাঁস-মুরগির বর্জ্য থেকেও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। তার ভাষ্য, গরুর গোবরের তুলনায় হাঁস-মুরগির বর্জ্য থেকে বেশি গ্যাস উৎপাদন সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘তিনটি গরু হলেই একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট বানানো সম্ভব। পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাসে কোনো ধোঁয়া হয় না, এটি দিয়ে সুন্দরভাবে রান্নার কাজ করতে পারবেন।’
বায়োগ্যাস থেকে আয় করার সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বায়োগ্যাস বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি প্লান্ট থেকে উৎপাদিত জৈব সার কৃষিকাজে ব্যবহার ও বিক্রি করা যায়।
বায়োগ্যাস প্লান্টের স্থায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বায়োগ্যাস প্লান্ট একবার ভালোভাবে তৈরি হলে চল্লিশ বছর এর সুবিধা একটানা নিতে পারবেন।’
প্লান্ট স্থাপনে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার জন্যও তারা প্রস্তুত রয়েছেন। ঋণের লেনদেন ভালো হলে পরবর্তী সময়ে ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব বলেও জানান তিনি।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে যুবদের মাঝে চেক বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।





