টেকনাফ
ঝড়ো হাওয়ায় ভাঙল বেলালের স্বপ্ন

মাত্র এক মাস আগে অনেক স্বপ্ন নিয়ে পোল্ট্রি খামারটি গড়ে তুলেছিলেন বেলাল হোসেন। ধারদেনা করে চার হাজার মুরগির বাচ্চা কিনেছিলেন। আশা ছিল, আর কয়েক সপ্তাহ পর মুরগি বিক্রি করে ঋণ শোধ করবেন, পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম এক আঘাতে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
টানা বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ বয়ে যাওয়া এক ঝড়ো বাতাস কয়েক মিনিটেই লণ্ডভণ্ড করে দিল তার একমাত্র সম্বল। চোখের সামনে চাপা পড়ে মারা গেল প্রায় দেড় হাজার মুরগি। আহত হলেন স্ত্রী ও দুই ছেলে। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে পড়ল তার পরিবার।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যার আগমুহূর্তে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের পুরানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টিতে পুরো টেকনাফ জনজীবন বিপর্যস্ত। চারদিকে পানি আর পানি। এর মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে আচমকা শুরু হয় প্রবল দমকা বাতাস। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবেই বেলাল হোসেনের পোল্ট্রি খামারের ওপর ভেঙে পড়ে গাছ ও বাঁশ। মুহূর্তেই ধসে পড়ে পুরো খামার। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় প্রায় দেড় হাজার মুরগি। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে মৃত মুরগির স্তূপ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক জানালেন, খামারের ভেতর তখন কাজ করছিলেন বেলাল হোসেনের স্ত্রী ও দুই ছেলে। খামার ভেঙে পড়তেই তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বেলাল হোসেন বললেন, এক মাস আগে চার হাজার মুরগি নিয়ে খামার শুরু করি। সব পুঁজি এখানেই ছিল। আর কিছুদিন পর বিক্রি করে সংসারটা একটু গুছিয়ে নেব, এই ছিল স্বপ্ন। কিন্তু এক ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল। নিজের চোখের সামনে এতগুলো মুরগি মরতে দেখেছি, কিছুই করতে পারিনি। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব, সেটাই বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, টানা অতিবৃষ্টির মধ্যেই শুক্রবার সন্ধ্যার আগে হঠাৎ দমকা বাতাসে খামারটি বিধ্বস্ত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মুরগি মারা যায়।
তার ভাষ্য, বেলাল হোসেনের পরিবারের জীবিকা বলতে এই খামারটিই ছিল। এখন সেটিও ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
তাদের মতে, সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
এদিকে তার ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী।





