লাশ কাটা ঘরের তিন দশক: পিরোজপুরের ডোম চয়নের জীবন-সংগ্রাম

ছবি: আগামীর সময়
মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে প্রথম মর্গের (লাশ কাটা ঘর) ভয়াল পরিবেশে প্রবেশ করেছিলেন পিরোজপুর শহরের হরিজন কলোনির বাসিন্দা চয়ন লাল ডোম। এরপর কেটে গেছে প্রায় আড়াই দশকেরও বেশি সময়। নিজের হাতে সম্পন্ন করেছেন দেড় হাজারের বেশি মরদেহের ময়নাতদন্ত। এমনকি বুকে পাথর চেপে নিজের আপন খালাতো বোনের লাশও কাটতে হয়েছিল তাকে। মৃত্যুর পর যিনি নিভৃতে সারেন ময়নাতদন্তের মতো অত্যন্ত কঠিন ও সংবেদনশীল এই কাজটি।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে চয়নের পরিবারের সঙ্গে। চয়নের দাদাও ছিলেন এই হাসপাতালের মর্গকর্মী। ১৯৯০ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সেই পদে যোগ দেন চয়নের বাবা পান্না লাল ডোম। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে মর্গে যাতায়াত ছিল চয়নের। ভয়ের বদলে লাশকাটা ঘরের পরিবেশ তাকে আরও কৌতূহলী করে তোলে। ছেলের এমন আগ্রহ দেখে অল্প বয়সেই তাকে কাজ শেখানো শুরু করেন তার বাবা। প্রায় সাত বছর আগে বাবা অবসরে যাওয়ার পর পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে চয়নের কাঁধে।
‘গাছপাগল’ রাজ্জাক
১৫ অক্টোবর ২০২৬
চয়ন ও তার স্ত্রীর আক্ষেপ, ডোমদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি কোটা থাকা সত্ত্বেও এবং বহু বছর ধরে কাজ করার পরও তাকে স্থায়ী করা হয়নি। মাঝে মাঝে চার-পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন আটকে থাকায় তাদের চরম দুর্দিন পার করতে হয়। এছাড়া মর্গে মৃতদেহ সেলাইয়ের সুতা, চাকু বা মোমবাতির মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অনেক সময় নিজেদের টাকা দিয়ে কিনতে হয় এবং সেগুলোর নির্দিষ্ট কোনো হিসাব বা সুরক্ষা থাকে না।
বাবার অবসরের পর মর্গের ডোমের পদটি শূন্য থাকলেও সেখানে এখনো চয়নকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের ডোম চয়নের দীর্ঘদিনের কাজের বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মতিউর রহমান জানান, চয়ন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পোস্টমর্টেমের সাথে সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি এবং ডাক্তার সাহেবের সাথে সহকারী হিসেবে গত তিন যুগ ধরে কাজ করে আসছেন। তিনি যথেষ্ট পরিমাণে অভিজ্ঞ ও সুনামের সাথে সেখানে কাজ করেন।
সিভিল সার্জন আরও জানান, তাকে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি ভালোভাবে কাজ করছেন এবং সুনামের সহিত মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানকারী চিকিৎসক সাহেবদের সাথে কাজ করছেন, সেহেতু ভবিষ্যতে যদি স্থায়ীভাবে পদ নিয়োগ হয়, তবে তাকে নিয়মের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।





