মাত্র দশ হাজার টাকার জন্য অটোরিকশা চালককে হত্যা!

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় লাগেজবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত ব্যক্তি মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক নায়েব আলী (৩৫)। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত। এর আগে দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়।
নিহত নায়েব আলী মেলান্দহ উপজেলার মৃত হাছেন আলী মণ্ডলের ছেলে। গ্রেপ্তাররা হলেন মেলান্দহ উপজেলার নাহিদুল ইসলাম (৩০), সোলাইমান (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আবদুল কাদের (৫৪), রাসেল হোসেন (৩৪) ও সাগর পাশা (২৬)।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ জুন নায়েব আলী নিখোঁজ হন। পরদিন তার পরিবারের সদস্যরা মেলান্দহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২৩ জুন ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর এলাকায় একটি লাগেজের ভেতর থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলছেন, মরদেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে প্রথমে পরিবারের সদস্যরাও তা শনাক্ত করতে পারেননি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরে নিখোঁজ ব্যক্তির জিডির তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের আবার মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নায়েব আলীর পরনের কাপড় ও শরীরে থাকা তাবিজ দেখে স্বজনরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের শুরুতে নাহিদুল ইসলামের ওপর সন্দেহ সৃষ্টি হলে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে নিহতের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল ও তার সহযোগীরা একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নায়েব আলীকে কৌশলে একটি ভাঙারির দোকানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পেছন থেকে জিআই তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ একদিন একটি ড্রামের ভেতরে রাখা হয়। এ সময় অটোরিকশাটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ভোরের দিকে ইসলামপুরের বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের ঘেরে ফেলে রেখে যান অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের দাবি, আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।





