‘ছিনতাইকারী’ সাজিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ইমামসহ ৬ জনের নামে মামলা

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে সিজান নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন মা শিল্পী বেগম।
আজ সোমবার ফতুল্লা মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন তিনি।
আসামিরা হলেন— আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি এবং মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদ কাশেমী (৪০), আব্দুল গণি হুজুর (৫০), রাজমিস্ত্রী আজবার (৫০), সাইদুল (৪২), আলম (৩৮), জিলানী ফকির (৫৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম। তিনি জানালেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’
এজাহারে নিহতের মা উল্লেখ করেন, গত ৪ জুলাই আসামিরা অনিক নামের একজনকে মোবাইল চোর সন্দেহে মারধর করে। এ সময় অনিক সিজানের নাম বললে চার-পাঁচজন সিজানকে ডেকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে আসামিরা সিজান ও অনিককে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে।
খবর পেয়ে সিজানের মা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমাম কাওছার আহমেদ কাশেমীর কাছে ছেলেকে মারতে নিষেধ করেন। ইমাম কাওছার শান্ত হন না। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুরুতর অবস্থায় সিজানকে ছেড়ে দেন। রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ৪ জুন পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পিটুনিতে সিজানের মৃত্যুর পর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদকে দায়ী করেন সিজানের বাবা ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়া।
অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম কাওছার তখন দাবি করেন, সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তাকে বাসা থেকে আনা হয়েছিল বোঝানোর জন্য। তবে সে সময় কিছু উত্তেজিত লোকজন তাকে পিটুনি দেয়। তার দাবি, যারা পিটুনি দিয়েছে তারা তার লোক নয়।
তবে ৫ জুলাই ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, ‘যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে, বাংলাদেশের প্রশাসন কী, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারব না। পাবলিক যদি কোনো কুত্তা মেরে ফেলে তাহলে কি অন্যায় হবে? কোনো মামলা হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।’
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানালেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।’




