বিরামপুরে প্রধান শিক্ষকশূন্য ৭৫ প্রাথমিক স্কুল, নৈশপ্রহরী নেই ১০০টিতে

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের বিরামপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা দিয়েছে প্রধান শিক্ষক সংকট। উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৫টিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে ১০০টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৩৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগ এবং ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। তবে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া অনেক প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর তাদের শূন্যপদ পূরণ হয়নি।
অন্যদিকে আদালতে মামলা চলমান থাকায় ২০০৯ সাল থেকে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য পড়ে আছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, একাডেমিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষক নেতাদের মতে, বছরের পর বছর পদোন্নতি আটকে থাকায় অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশে।
এদিকে প্রধান শিক্ষক সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। উপজেলার ১১৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০০টিতেই নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরির পদ শূন্য। ফলে রাতের বেলায় অধিকাংশ বিদ্যালয় অরক্ষিত থাকছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম ও বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটছে। এতে সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তেমনি ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করা যোগ্য সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষক সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




