তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
কষ্টে গড়া স্কুল জাতীয়করণের ঘোষণা হাসপাতালে বসে পাই : বামং খিয়াং

ছবি: আগামীর সময়
বান্দরবানের থানচির দুর্গম তিন্দু এলাকার টিনশেড আর ভাঙা টিনের বেড়ার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির দুঃখ আর থাকছে না। গতকাল রবিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী।
সংসদে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে অবিলম্বে জাতীয়করণের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিজের কষ্টে গড়া স্কুল জাতীয়করণের ঘোষণা যখন আসে তখন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং তার নিমোনিয়া আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে ছিলেন থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
আজ সোমবার সকালে মুঠোফোনে কথা হয় বামং খিয়াংয়ের সঙ্গে। তিনি আগামীর সময়কে জানালেন, হাসপাতালে বসেই অন্যদের মাধ্যমে সুখবরটি পেয়েছি।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা জানালেন, তিন্দু গ্রোপিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুন পাকা ভবনে স্থানান্তরিত হলে ২০২০ সালে ভাঙা টিনশেড ভবনে গড়ে ওঠে নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলটি।
তিনি বললেন, ইউএনডিপি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, থানচি উপজেলা পরিষদ, তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদ এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমাদের চলার পথটি আরও সহজ হয়ে ওঠে।
প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং জানালেন, গত বছর থানচি উপজেলা পরিষদ থেকে রেমাক্রি এবং তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি ইঞ্জিন বোট অনুদান দেওয়া হয়। বোট ভাড়া দিয়ে স্কুলের তহবিলে আসা টাকাতেই চলছিল শিক্ষকদের বেতন।
বামং খিয়াংয়ের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে ছুটির দিনে আমিও বোট চালিয়ে বাড়তি আয় করে স্কুলের তহবিলে জমা করেছি।
সোমবার সকালে তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘এবার হয়তো দুঃখ কেটে যাবে। আমি এবং সহকারী শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পাব।’
নতুন স্কুলভবন হবে। ছাত্র-শিক্ষককে আর গরমে সিদ্ধ হয়ে ক্লাস করতে হবে না। ভাঙা টিনের চাল বেয়ে আর পানি গড়িয়ে পড়বে না ক্লাসরুমে— বলছিলেন তিনি।




