ভোলায় বেড়িবাঁধ ভাঙনের শঙ্কা
- চরফ্যাশনে নদী থেকে বালু উত্তোলন

সংগৃহীত ছবি
ভোলার চরফ্যাশনে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে করা হচ্ছে বালু উত্তোলন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে কয়েকটি স্থানে বাড়ছে নদীভাঙনের ঝুঁকি। এরই মধ্যে কোথাও কোথাও ঘটেছে বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঘটনাও। তবে বালু উত্তোলনের কারণে এসব ভাঙন হচ্ছে কি না— তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে চরফ্যাশনের বেতুয়া ও আশপাশের এলাকায় নদীর মধ্যে দেখা গেছে ড্রেজার এবং বাল্কহেড। স্থানীয়দের ভাষ্য, ড্রেজারে তোলা বালু বাল্কহেডে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। পরে এসব বালু নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করা হয়। নদীতীরবর্তী কয়েকটি স্থানেও দেখা গেছে বালুর স্তূপ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীর বেতুয়া ও আশপাশের এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য নেই বৈধ বালুমহাল বা ইজারা। এরপরও বিভিন্ন স্থানে তোলা হচ্ছে বালু। তাদের আরও অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করায় এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না তারা। বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. বাবুল মাঝি বললেন, বেতুয়া ও নতুন স্লুইসগেটের আশপাশের নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। বালু উত্তোলন চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে নদীভাঙনের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী বললেন, নদীর তলদেশ থেকে অব্যাহত ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন এবং পানির প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। নদীতীরের কাছ থেকে অতিরিক্ত বালু তোলা হলে তীরের মাটি দুর্বল হয়ে বর্ষা ও প্রবল স্রোতে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার তীরবর্তী বেতুয়া ছাড়াও শশীভূষণ, হাজারীগঞ্জ, খেজুরগাছিয়া, আবদুল্লাহপুর, নীলকমল ও ঘোষেরহাট এবং তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বললেন, বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





