ঈদের পরও পর্যটকশূন্য তাহিরপুর, বিপাকে পর্যটননির্ভর মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এবার ঈদুল আজহার পরও দেখা মিলছে না পর্যটকদের চিরচেনা ভিড়। প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি), যাদুকাটা নদী, বড়গোপ টিলা ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকলেও এবার বেশিরভাগ এলাকা প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। এতে বিপাকে পড়েছেন পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাওরে এখনো পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পর্যটকদের আগমন কমেছে। তাহিরপুরের অধিকাংশ পর্যটন এলাকা নৌপথে সংযুক্ত। বর্ষায় হাওরে পানি বাড়লে নৌকা চলাচল সহজ হয় এবং পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যেতে পারেন। তবে এবার পুরোপুরি নৌ-যোগাযোগ চালু না হওয়ায় ভ্রমণে ভোগান্তির আশঙ্কায় অনেকেই পরিকল্পনা বাতিল করছেন।
এর পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল অবস্থাকেও পর্যটক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পর্যটক না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ছোট ছোট ব্যবসা। নৌকার মাঝি, হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ী, খাবারের দোকানি, পরিবহন শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আয় কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
স্থানীয় ফটোগ্রাফার ফরহাদ হাসান পরান জানালেন, অন্য বছর ঈদের পর পর্যটকদের ভিড়ে এলাকা মুখর থাকত। কিন্তু এবার পুরো পর্যটন এলাকা প্রায় ফাঁকা। তার ভাষ্য, সড়কের দুরবস্থা ও হাওরে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণেই পর্যটকদের আগমন অনেক কম।
তবে দ্রুত পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কয়েক দিনের মধ্যে হাওরে পানি বাড়লে নৌ-যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে। তখন আবারও পর্যটকদের আগমনে তাহিরপুরের পর্যটন এলাকাগুলো প্রাণ ফিরে পাবে।
শহীদ সিরাজ লেকে পর্যটকদের নৌভ্রমণ করান বড়ছড়া এলাকার বাসিন্দা মো. খোকন মিয়া। জানালেন, সাধারণত ঈদের দিন থেকেই পর্যটকের ভিড় শুরু হয়। কিন্তু এবার পর্যটক না থাকায় নৌকা নিয়ে অলস সময় কাটছে।
তবে হাওরের অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ স্বাভাবিক হলে আবারও পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।






