ঝিনাইগাতী
লটকন বাগানে স্বচ্ছল ইউপি মেম্বার

মো. হামিদুল্লাহ এলাকায় একজন সফল লটকন চাষি ও অনুকরণীয় কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, ছবি: আগামীর সময়
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর ইউপি সদস্য মো. হামিদুল্লাহর জীবন এখন শুধু একজন জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এলাকায় একজন সফল লটকন চাষি ও অনুকরণীয় কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
একসময়ের পতিত ৩৫ শতক জমি এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হয়েছে। আর সেটি হলো একটি লাভজনক লটকন বাগান। এই বাগানই তাকে দিয়েছে আর্থিক সচ্ছলতা, সামাজিক মর্যাদা এবং পরিবারের স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ।
মো. হামিদুল্লাহ নলকুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের ইউপি সদস্য।
২০০৭ সালে নরসিংদীতে চাচার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রথম লটকন বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন হামিদুল্লাহ। তখন থেকেই তার মনে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষের আগ্রহ জন্ম নেয়। ঝিনাইগাতী ফিরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজের পতিত জমিকে কাজে লাগাবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি নরসিংদীতে চাচা খালেক মেম্বারের কাছ থেকে ১২০টি লটকন চারা সংগ্রহ করেন। ৩৫ শতক জমিতে লটকন চাষ শুরু করলেও শুরুটা ছিল চ্যালেঞ্জিং। সঠিক পরিচর্যার অভাবে মাত্র ৫১টি গাছ টিকে যায়। সেই ব্যর্থতাই তাকে আরও অভিজ্ঞ করে তোলে। আবারও তিনি চারা রোপণ করে পরিচর্যা শুরু করেন।
ধীরে ধীরে তিনি বাগানের পরিচর্যায় মনোযোগ দেন। নিয়মিত পরিশ্রমের মাধ্যমে গাছগুলো বড়ও হতে থাকে। ২০১৪ সাল থেকে গাছে ফল আসা শুরু হলে তার জীবনে আসে প্রথম সাফল্যের স্বাদ। সে বছর স্থানীয় পাইকারদের কাছে চুক্তিভিত্তিক লটকন বিক্রি করে আয় হয় মাত্র ১৬ হাজার টাকা।
পরের বছর উৎপাদন বাড়ায় আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকায়। এর পর থেকে বাগানটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয় এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পেতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার কৃষি উদ্যোগ একটি লাভজনক প্রকল্পে পরিণত হয়।
২০২০ সালে তার লটকন বাগান থেকে আয় হয় লক্ষাধিক টাকায়। ২০২৫ সালে বিক্রি হয় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার লটকন। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। ধারাবাহিক এই সফলতাই তাকে এলাকায় একজন মডেল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত করেছে।
হামিদুল্লাহ জানান, লটকন বাগানই তার জীবনের মূল ভরসা। এই আয় থেকেই তিনি সংসার চালাচ্ছেন, সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছেন এবং নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তিনি বললেন, এই বাগান আমার জীবন বদলে দিয়েছে।
তার পরিবারও এখন এই সাফল্যের অংশ। তার বড় ছেলে ব্যবসা করছেন। মেজো ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং ছোট ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কৃষিকাজে সহযোগিতা করছেন।
লটকন চাষ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বললেন, গাছ বড় হলে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যায়। বছরে ১-২ বার স্প্রে করলেই পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তবে ভালো ফলনের জন্য জৈবসার ব্যবহারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শন করেন। দেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনও বাগান পরিদর্শন করে কৃষি উন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেন।
ভারুয়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা ও ছাত্রনেতা শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, ‘হামিদুল্লাহ মামার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে কৃষি থেকেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।’




