তিন প্রজন্ম ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে ঠাকুরদাদার বটবৃক্ষ

শাখা-প্রশাখা ছড়িয়েছে প্রায় দুই বিঘা জমিজুড়ে। কয়েক শতাব্দী ধরে ছাঁয়ার প্রশান্তি বিলিয়ে আগলে রেখেছে গ্রামবাসীকে। লোকমুখে জানা গেল, বয়স তার প্রায় ৩০০ বছর। এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বটবৃক্ষটি।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়মিত পূজা-অর্চনা চলে এই বটের মূলে। প্রতিবছর বসে মেলাও। কেবল গাছ নয়, দুর্গাপুর গ্রামে অন্যতম নিদর্শন হয়ে উঠেছে গাছটি।
স্থানীয় মজিদনগর কারিগরি ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা কলেজের প্রভাষক কালীপ্রসন্ন সরকারের দাবি, তার পারিবারিক গাছ এটি।
তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, আমার ঠাকুরদাদারা এই গাছটি রোপণ করেছিলেন। পরে পারিবারিক জায়গা-জমি বণ্টনের সময় প্রাচীন এই বটগাছটি আমার বাবা বারীন্দ্রনাথ সরকারের অংশে পড়ে। সেই সূত্রে জমি ও বটগাছটির উত্তরাধিকারি এখন আমি ও আমার পরিবার।’
‘আমাদের পরিবারের তিন প্রজন্ম ধরে গাছটির বয়স শত বছরের বেশি বলে শুনে আসছি। স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, গাছটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর হতে পারে’- বললেন এই শিক্ষক।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়েছে বটের শাখা-প্রশাখা। দূর থেকেই নজর কাড়ে এর বিস্তৃত ডালপালা।
দুর্গাপুর গ্রামের ৯৬ বছরের মঙ্গল সরেন বললেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই গাছটিকে দেখে আসছি। এটি আমাদের এলাকার একটি সম্পদ।’
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয়দের স্মৃতিতে এভাবেই জড়িয়ে আছে এই বটবৃক্ষ।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজীনা খাতুন বলেছেন, ‘এটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো বটগাছগুলোর একটি। স্থানীয়ভাবে গাছটির বয়স ৩০০ বছরের বেশি বলে জানা যায়। প্রায় দুই বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত গাছটি দেখতে অনেকে আসেন।’
বয়স ও ঐতিহ্য বিবেচনায় সরকারি উদ্যোগে এই বটগাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন গ্রামবাসী।





