বড়পুকুরিয়ায় বিকল্প সড়ক নির্মাণে বাধা

সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়ায় কয়লা উত্তোলনের কারণে দেবে যাওয়া পুরনো সড়কের বিকল্প হিসেবে প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে বড়পুকুরিয়া বাজার থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত এ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে সড়কের কয়েকটি স্থানে স্থানীয় পাঁচ ব্যক্তির অবৈধ স্থাপনা থাকায় নির্মাণকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খনি কর্মকর্তারা।
খনি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৮০০ মিটার এবং প্রস্থ ৪ মিটার। পার্বতীপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা ও তদারকি করছে। সড়কটি নির্মিত হলে পলাশবাড়ী, হরিরামপুর ও হামিদপুর ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের পাশাপাশি পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা সদরে যাতায়াতের বিকল্প পথ তৈরি হবে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) জিএম (সারফেস অপারেশন) আবুল কালাম মোহাম্মদ বদরুল আলম জানিয়েছেন, কয়লা খনির কার্যক্রমের কারণে কয়েক বছর আগে খনির পূর্ব পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দেবে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ওই এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে পুরনো সড়কের পূর্ব পাশে নতুন বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খনি কর্তৃপক্ষ।
সড়ক নির্মাণে খনি কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর জেলা এলজিইডিকে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয়ও একই পরিমাণ। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ সড়কটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।
বদরুল আলম আরও জানিয়েছেন, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজের প্রথম ধাপ শেষের পথে। তবে নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের কয়েকটি স্থানে কিছু স্থাপনা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সড়ক নির্মাণের জায়গায় স্থানীয় পাঁচ ব্যক্তির বাড়ির গোসলখানা, সীমানাপ্রাচীরসহ কিছু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনা এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের নির্মাণকাজ করতে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থাপনা অপসারণের জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণকাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক জানিয়েছেন, খনি কর্তৃপক্ষের চিঠি পাওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো স্থাপনা সরায়নি। কাজ শুরুর দিকে কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সাধারণ মানুষ ও উপজেলা প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপে বর্তমানে নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কাজ চলছে।
খনির সারফেস অপারেশনের ম্যানেজার জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সড়কটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত মান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে নিয়মিত কাজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মানিক মিয়া জানিয়েছেন, বর্তমানে সড়কের বেস কোর্স বা খোয়া বিছানোর কাজ চলছে। সড়কের বিভিন্ন চেইনেজে আবাসিক স্থাপনা থাকায় নকশা অনুযায়ী কাজ করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। নির্ধারিত সোল্ডারের জায়গায় স্থাপনা থাকায় সেসব স্থাপনা ঘেঁষে খোয়া বিছানোর কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি মন্তব্য করেন, এসব ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা যত দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হবে, তত দ্রুত এলাকার মানুষ নতুন সড়কটির সুবিধা পাবেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সড়কটির উত্তরে বড়পুকুরিয়া বাজার, ধুলাউদাল বাজার, ঢেড়ের হাট, বুড়া বাজার, খয়েরপুকুর হাট, খোলাহাটী ও পার্বতীপুর উপজেলা সদর রয়েছে। দক্ষিণে রয়েছে বৈগ্রাম, মহেশপুর বাইপাস ও ফুলবাড়ী উপজেলা।
তাদের মতে, সড়কটি শুধু বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি চালু হলে পার্বতীপুরের তিনটি ইউনিয়ন এবং পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের মানুষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা বাড়বে এবং যাতায়াতে সময় কমবে।




