লাকসামে গ্রেপ্তার ১৬ ‘ছাত্রলীগ’ কর্মীর মধ্যে ৮ জনই শিশু, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

কুমিল্লার লাকসামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করেছেন তাদের অভিভাবকরা। শিশুদের রাজনৈতিক পরিচয়ে গ্রেপ্তার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তারা হলেন আনাস আল মারুফ (১৫), শাহাদাত হোসেন জিহাদ (১৪), ওমর ফারুক (১৬), সাকিব হোসেন (১৭), রায়হান (১৬), মো. নোমান (১৬), নাহিদুল ইসলাম জিহাদ (১৬) এবং তৌহিদুল হাসান (১৭)।
লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার আশঙ্কার অভিযোগে পৌরশহরের বাইপাস এলাকা থেকে ১৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটক সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য।
তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, আটক শিশুদের অনেকেই শ্রমজীবী কিংবা পরিবারের সঙ্গে দৈনন্দিন কাজে যুক্ত ছিল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মামলা দেওয়া হয়েছে।
আনাস আল মারুফের দাদা মো. আবদুর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, তার নাতি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। অথচ অল্প বয়সী ওই শিশুকে রাজনৈতিক অজুহাতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আরেক অভিভাবকের ভাষ্য, বাবা-মা হারানো তার নাতি একটি গ্যারেজে কাজ করে। জুতা কিনতে বাজারে গেলে কয়েকজন তাকে ধরে পুলিশের কাছে দেয়। পরে তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক দাবি করেন, তাদের সন্তানরা ব্যবসা বা কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আটক হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি বিষয়টিকে স্পর্শকাতর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বয়সী শিশু-কিশোরদের রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া এবং কারাগারে পাঠানো তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জনকে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।



