৩৮ বছরেও সেতু হয়নি, ৮ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে পড়া সেতু ৩৮ বছরেও পুনর্নির্মাণ হয়নি। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ভুরভুরা বিলের ওপরের এই সেতুটি না থাকায় আশপাশের আট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে তাদের সময় লাগছে এক ঘণ্টা।
স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতু ও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন সেতুর ভাঙা পিলারসহ বাকি অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। সেতুর অভাবে মোসলেমাবাদ, উত্তর জোড়খালী, চরবন্দ, নিশ্চিন্তপুর, কাতলামারী, জাঙ্গালিয়া, সিংদহ ও গুনারিতলা গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যের জমির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিকল্প পথে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। বর্ষায় কাদা আর পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে কষ্ট আরও বাড়ে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। এই সড়কের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়, বালিজুড়ি এফ এম উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। সেতু না থাকায় তাদের অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিলের জমির মধ্য দিয়ে হাঁটতে হয়।
বালিজুড়ি এফ এম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, 'শিক্ষা থেকে বঞ্চিত আমরা, চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত। প্রসূতি মা আর মুমূর্ষু রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।'
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, সেতু নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, জনগণ দীর্ঘদিন ধরেই ভুরভুরা বিলের ওপর সেতুর দাবি করে আসছেন। দুই মাস আগে সেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষা চালানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই চূড়ান্ত অনুমোদন আসবে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করবেন।




