রাজশাহীতে ভারতীয় গরুর দাপট
- পশুর সরবরাহ বেশি হলেও দাম চড়া
- হাটের প্রায় ১০ শতাংশ পশুই ভারতীয়
- খামারিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ

ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিটি হাট। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় বাড়লেও আশানুরূপ বেচাকেনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা।
তাদের ভাষ্য, পশুর সরবরাহ অনেক বেশি হলেও দাম এখনো চড়া। একই সঙ্গে হাট জুড়ে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি স্থানীয় খামারিদের মধ্যে তৈরি করেছে নতুন উদ্বেগ।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু, ছাগল ও মহিষ এসেছে সিটি হাটে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও ট্রাকে ট্রাকে পশু আসতে দেখা গেছে গতকাল রবিবারও। দেশি গরুর পাশাপাশি চোখে পড়েছে ভারতীয় হরিয়ানা জাতের সাদা গরুও। কয়েক ব্যবসায়ীর দাবি, হাটের প্রায় ১০ শতাংশ পশু ভারতীয়।
নওগাঁ থেকে গরু নিয়ে আসা খামারি আবদুল জলিল জানালেন, ভারতীয় গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশি গরুর প্রতি আগ্রহ কমছে ক্রেতাদের।
সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের সুযোগ নেই। বিজিবি কঠোর অবস্থানে থেকেই পালন করছে দায়িত্ব -লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার অধিনায়ক, রাজশাহী-১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন
‘হাটে গরুর আমদানি প্রচুর। দামও বেশি। কিন্তু বিক্রি আশানুরূপ না। ১০টি গরু নিয়ে এসেছি, মাত্র দুটি বিক্রি করতে পেরেছি’— বললেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারি রাফিউলের অভিযোগ, সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে রাতের আঁধারে ভারতীয় গরু ঢুকছে বাংলাদেশে।
তার ভাষায়, ভারতের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় বাংলাদেশের মতো করেই পালন হয় গরু। সেই গরু বিভিন্নভাবে দেশে ঢুকছে বলেই এবার হাটে সরবরাহ অনেক বেশি মনে হচ্ছে।
পাবনা থেকে ১৫টি গরু নিয়ে সিটি হাটে এসেছেন খামারি আবদুন নুর। তিনি জানিয়েছেন, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে গরুর দামও।
‘দেশি গরুর সমান আকারের ভারতীয় গরু বাজারে বেশি। ফলে বিক্রি কম হচ্ছে। তবে ছোট সাইজের গরুর চাহিদা বেশি’— বললেন তিনি।
ঢাকার গাবতলী থেকে আসা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলছেন, ‘বাজার পরিস্থিতি দেখে তিনি কিছুটা সতর্ক অবস্থানে আছেন।’
‘হিসাব করলে গরুর মাংসের কেজি পড়ে যাচ্ছে প্রায় ৯০০ টাকা। পরিকল্পনা ছিল অন্তত ৫০টি গরু কেনার; কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টা কিনেছি’— যোগ করেন তিনি।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল ও ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। জেলার চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। সে হিসাবে প্রায় ৯২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা সরবরাহ করা হতে পারে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে।
ভারতীয় প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান। সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে।
‘হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশের সুযোগ নেই। তারপরও কারও চোখে দু-একটি গরু ভারতীয় বলে মনে হলে সেগুলো অন্য কোনো উপায়ে আসতে পারে’— বললেন তিনি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেছেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে ভারতীয় গরু প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। রাজশাহী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের সুযোগ নেই। বিজিবি কঠোর অবস্থানে থেকেই পালন করছে দায়িত্ব। সিটি হাটে ভারতীয় গরু এসে থাকলে সেগুলো অন্য সীমান্ত কিংবা অন্য কোনো উপায়ে আসতে পারে। এ বিষয়ে তাদের কাছে নেই সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য।






